• বুলডোজ়ার অভিযানে রাশ, বিধি মেনেই ভাঙতে হবে বেআইনি নির্মাণ, নির্দেশ হাইকোর্টের
    এই সময় | ৩০ মে ২০২৬
  • এই সময়: বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে ১৩ মে থেকে বেআইনি িনর্মাণের বিরুদ্ধে অভিযানে বুলডোজ়ার ব্যবহার করে ভাঙা আটটি বাড়ির মালিক–ভাড়াটিয়াদের মামলার একযোগে শুনানি হলো কলকাতা হাইকোর্টে। বেআইনি ভাবে বাড়ি ভাঙা হয়েছে এবং সেই সব বাড়ির দরজায় তালা দিয়ে দেওয়ায় কোনও জিনিসপত্রও বসবাসকারীরা বের করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের গ্রীষ্মাবকাশকালীন বেঞ্চে শুনানিতে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং রুলস না মেনে বুলডোজ়ার চালিয়ে সব ভেঙে দেওয়ার পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

    সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে আদালতের নির্দেশ, ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী অফিসার, পুরসভার প্রতিনিধি ও আবেদনকারীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তালা খুলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে পারবেন মামলাকারীরা। তবে তদন্তের স্বার্থে যদি তদন্তকারী অফিসার মনে করেন, তা হলে সেই নথি বা জিনিস নিতে পারবেন না কেউ। সবক’টি ক্ষেত্রেই ৩০ দিনের মধ্যে সব পক্ষকে যথাযথ নোটিস দিয়ে ডেকে পুরসভাকে আইন মেনে শুনানি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। তার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ করা যাবে। তার আগে আর এই ভাবে মামলাকারীদের বিল্ডিংগুলি ভাঙার কাজে হাত দেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট।

    গত ১২ মে রাতে তিলজলার একটি বিল্ডিংয়ে আগুন লেগে বড়সড় ক্ষতি হয়। তার পরেই ওই বিল্ডিংয়ের বেআইনি নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়। পরের দিন বুলডোজ়ার নিয়ে গিয়ে সেই নির্মাণ ভাঙা শুরু হয়। পাশাপাশি তপসিয়া, কসবাতেও গত কয়েক দিন ধরে বুলডোজ়ার চালিয়ে বেআইনি বিল্ডিং ভাঙা শুরু করেছে পুরসভা। শুক্রবার হাইকোর্টে শুনানিতে অভিযোগ করা হয়, একদিকে কোনও নোটিস না দিয়েই বুলডোজ়ার চালিয়ে বেআইনি দাগিয়ে কিছু বিল্ডিং ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, কয়েকটি ক্ষেত্রে নোটিস দিয়ে দু’দিনের মধ্যে বেআইনি বলে বিল্ডিং ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

    মামলাকারীরা এ ব্যাপারে কলকাতা পুরসভার আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের বেআইনি নির্মাণ ভাঙা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, আইনের তোয়াক্কা না করেই পুরসভা নিজের মতো করে নির্মাণ ভাঙছে। কোথাও আগের দিন নোটিস দিয়ে বাড়ি ফাঁকা করতে বলে পরের দিন বুলডোজ়ার ব্যবহার করা হয়েছে। রাজ্যের কৌঁসুলি দাবি করেন, বেআইনি নির্মাণ দিনের পর দিন নানা অজুহাতে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। যদিও আদালত জানিয়ে দেয়, বিধি মেনেই কেবল বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ করতে হবে পুরসভাকে।

  • Link to this news (এই সময়)