এই সময়, বর্ধমান: রাজ্যে পালাবদলের পরে সামগ্রিক ছবিতেও এসেছে আমূল পরির্তন। অবৈধ বালি মজুত করা নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে জেলায়। সাত দিনে আদায় হয়েছে চার কোটি টাকা! এবং প্রকাশ্যে চলে এসেছে, আগের সরকারের সময় জেলার নেতাদের মদতে কী ভাবে বিভিন্ন জায়গায় বালি মজুত করে রাখা হতো।
সেই অভিযানের সূত্র ধরেই উঠে এসেছে অন্য এক অজানা গল্প। অবৈধ ভাবে বালি মজুত করেছিলেন বর্ধমানের সদরঘাট এলাকার তিন বালি ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি লিজ় নিয়ে ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি বালি মজুত করতেন। নিজেদের জায়গা ছাড়াও অন্য জায়গাতেও বালি মজুত হতো। সূত্রের খবর, বালি মজুতের কাজে জেলা তৃণমূলের দুই প্রভাবশালী নেতার মদত ছিল। সরাসরি তাঁরা এত দিন ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে ফোন করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না–নেওয়ার কথাও বলেছেন!
এই ব্যবসায়ীদেরএকজন থাকেন সদরঘাট এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা মহাদেব সাহা বলছিলেন, ‘বালির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত লোকরা নিজেদের অন্য কিছু মনে করত। এত দিন তৃণমূলের প্রভাবশালীরা তাঁদের আগলে রাখতেন। সাত দিন আগে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের এক দল আধিকারিক এখানে এসেছিলেন। এলাকায় এই প্রথম বার অভিযান হলো।’
এই বালি কারবারীদের বিরুদ্ধে কিছু দিন ধরেই তথ্য–সহ অভিযোগ জমা পড়েছিল জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের কাছে। তার ভিত্তিতে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা অবৈধ ভাবে স্টক করে রাখা বালির মাপজোক করেন। যে এলাকায় বালি মজুত হতো, সেই এলাকার দাগ খতিয়ান নম্বর ধরেও তদন্ত করেন। শো-কজ় করা হয় তিন ব্যবসায়ীকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শো-কজ়ের উত্তরও দিতে বলা হয়। কিন্তু উত্তরে সন্তুষ্ট হননি ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসক। তিনি ওই ব্যবসায়ীদের মজুত করা দু’টি বালির স্টকের একটির ক্ষেত্রে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ও অন্যটির ক্ষেত্রে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সূত্রের খবর, নোটিস পাওয়ার পরে বালি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার কথা ভেবে এক আইনজীবীর সঙ্গেও কথা বলা হয়। সব কাগজপত্র খতিয়ে দেখে ওই আইনজীবী জানান, আদালতের দারস্থ হলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। আর কোনও ঝঁুকি না–নিয়ে বালি ব্যবসায়ীরা বর্ধমান ট্রেজারিতে জরিমানা বাবদ ৪ কোটি টাকা জমা দেন।
ওই এলাকায় আরও কিছু বালি খাদান নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। উঠেছে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। শুধু বেশি বালি তোলা নয়, বর্ধমান–২ ব্লকে বালি মজুত করার অনুমতি থাকলেও বালি মজুত করা হয়েছিল বর্ধমান–১ ব্লকের অনেকটা অংশ জুড়ে। সদরঘাট এলাকার এক বালি ব্যবসায়ী বলেন, ‘এত দিন আমরাও ব্যবসা করতাম। শাসকদলের লোকদের যা চাহিদা ছিল, তা–ও মিটিয়ে দিতাম। ফলে সমস্যা হতো না। এখন সরকার বদলের পরে সমস্যা হয়ে গেল। দেখা যাক, পরে কী দাঁড়ায় পরিস্থিতি।’