এই সময়, তমলুক: রাজ্য সরকারের নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’কে ঘিরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা। আগামী ৩ জুনের মধ্যে জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজার ৫০০ উপভোক্তার নাম নথিভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেই লক্ষ্যপূরণে ব্লক ও পুরসভা স্তরে জোরকদমে চলছে ফর্ম বিতরণ, আবেদন গ্রহণ ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অনলাইনের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন বিডিও অফিস, পুরসভা এবং নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে সরাসরি আবেদনপত্র বিলি করা হচ্ছে। প্রতিটি ব্লক অফিসে খোলা হয়েছে বিশেষ হেল্প সেন্টার। আবেদনকারীদের নানা সমস্যা বা তথ্যগত বিভ্রান্তি দূর করতে প্রশাসনিক কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর— সর্বত্রই প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরে বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ১৪ লক্ষ ২৮ হাজার। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার এ বার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মাধ্যমে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সেই কারণেই বৃহৎ সংখ্যক সম্ভাব্য উপভোক্তাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনতে দ্রুততার সঙ্গে চলছে নাম নথিভুক্তির কাজ।
তবে আবেদন প্রক্রিয়ার মাঝেই সামনে এসেছে বিভ্রান্তির নানা অভিযোগ। জেলা প্রশাসনের দাবি, সমাজ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই একাধিক ভুয়ো ও অননুমোদিত ফর্ম ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের অনুমোদিত সরকারি ফর্মই বৈধ এবং গ্রহণযোগ্য। কোনও ফর্ম সংগ্রহ বা পূরণ করার আগে তা ভালো ভাবে যাচাই করে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে সাধারণ মানুষকে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রতিটি স্তরে নজরদারি চালানো হচ্ছে।’
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, ‘আগামী ৩ জুনের মধ্যে জেলার প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজার ৫০০ উপভোক্তার নাম নথিভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। জেলা জুড়ে জোর কদমে কাজ চলছে।’