• বাল্যবিবাহ নিয়ে কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
    আজকাল | ৩০ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি এবং প্রাক্তন সরকারের আমলে মহিলাদের উন্নয়ন প্রকল্প গুলির কার্যকারিতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুললেন দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বাল্যবিবাহের ক্রমবর্ধমান হার এবং শিল্পায়নের পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

    রাজ্যে বাল্যবিবাহের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'যে রাজ্যে কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্প নিয়ে এত প্রচার চালানো হয়, সেখানেই আজ বাল্যবিবাহের হার দেশের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।'

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই বাংলাতেই রাজা রামমোহন রায় বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীরা লড়াই করেছিলেন। অথচ আজ মেয়েরা পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

    জানান, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সেই অনেকের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জোর করে বিয়ে দেওয়ার কারণে মেয়েরা বাড়ি ছেড়ে থানায় গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। দিলীপ ঘোষ এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    পাশাপাশি, রাজ্যে শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাপ্রকাশ করেন বিজেপি নেতা। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হওয়ার আভাস পেতেই দেশ-বিদেশ থেকে বহু শিল্পপতি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। দুবাই, লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরের মতো জায়গা থেকেও ব্যবসায়ীরা বাংলায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, 'বাংলায় পরিকাঠামো রয়েছে, কিন্তু দুর্নীতি ও অব্যবস্থার কারণে এতদিন কোনও বড় বিনিয়োগ আসেনি। আমরা এমন এক পরিবেশ তৈরি করব যেখানে এক বছরের মধ্যে রাজ্যের শিল্পের চেহারা বদলে যাবে।'

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সিঙ্গুর আন্দোলন এবং টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্য থেকে তাড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'গত ১৫ বছরে রাজ্যের মানুষকে সর্বহারা করা হয়েছে। বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তবে বিজেপি সরকারে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হবে।'

    এছাড়াও, টলিউড এবং বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ফিল্ম মাফিয়া এবং ক্রীড়া মাফিয়ারা বাংলার সংস্কৃতিকে গ্রাস করেছে, যার ফলে প্রকৃত শিল্পীরা কাজ হারাচ্ছেন।

    তাঁর অভিযোগ, এই কারণেই বাধ্য হয়ে শিল্পীদের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যেতে হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, রাজ্যের নারী নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ রোধ এবং অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন দিলীপ ঘোষ।
  • Link to this news (আজকাল)