• এয়ারপোর্টের পাশেই, স্বাধীনতার পর এই প্রথম এল বিদ্যুৎ! লড়াই জানলে চোখে জল আসবে
    News18 বাংলা | ৩০ মে ২০২৬
  • কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বের এই জায়গায়, স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর অতিক্রান্ত হলেও পৌঁছতে পারল না বিদ্যুৎ! চরম অস্বস্তি কর পরিস্থিতি ও গরমের মধ্যেও এভাবেই দিন গুজরান করতে হতো তিন মহিলাকে! অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেই বদলে গেল পরিস্থিতি। বাড়িতে এসে পৌঁছল বিদ্যুৎ। জ্বলল লাইট, ঘুরল পাখা।

    ঘটনাটি উত্তর দমদম বিধানসভা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্লোব নার্সারি এলাকার। সেখানে বহু বছর ধরে বসবাস করছেন আরতি মণ্ডলের পরিবার। পরিবারের তিন সদস্যই মহিলা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিপিএম ও তৃণমূল দুই জমানাতেই একাধিকবার বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করা হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি তাদের। সম্প্রতি উত্তর দমদমের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার এলাকায় গিয়ে পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পারেন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছিলেন ওই পরিবারের সদস্যরা।

    এরপর বিধায়কের হস্তক্ষেপে স্টেট সাপ্লাই-এর মাধ্যমে মাত্র সাত দিনের মধ্যেই বাড়িতে পৌঁছে গেল বিদ্যুৎ সংযোগ। বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি পরিবারের সমস্যার কথা শুনেছিলেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, কাজ করতে গেলে সদিচ্ছা থাকা দরকার। মানুষের সমস্যা সমাধান করাই জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। পাশাপাশি তিনি বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, যে কাজ ৫০ বছরেও সিপিএম ও তৃণমূল করতে পারেনি, সেটাই আমরা অল্প সময়ে করে দেখালাম।

    সত্তরোর্ধ্ব আরতি দেবী আবেগের সুরেই জানান, সারা জীবন অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। অর্থের অভাবে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ করানো সম্ভব হয়নি। ছেলে মারা যাওয়ার কারণে, দীর্ঘ বছর ধরে বৌমা ও নাতনি কে নিয়ে এই অন্ধকার জীবনেই চলে সংসার। চারপাশের বাড়িতে যখন জলে আলো ঘোর পাখা, সেই সময় বৃষ্টি মন্ডল পড়াশুনা করতো লম্পর আলোতেই। আজ উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে সংসার চালাতে ছোট্ট একটি কাজ করে বৃষ্টি। অভাবের সংসারে লড়াই এই মহিলাদের। বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে ছুটে গিয়েছিলেন বারংবার। কিন্তু প্রত্যাখ্যান জুটেছে সব সময়। অজানা কারণেই তাদের মেলেনি বিদ্যুৎ সংযোগ। তাঁর কথায়, আমার স্বামী আলো-পাখা ছাড়াই মারা গিয়েছে।

    এত বছর অনেক কষ্টে কাটিয়েছি। আজ ঘরে আলো এসেছে, পাখা ঘুরছে খুব আনন্দ লাগছে। পরিবারের সদস্যরা বিধায়ক সহ বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দীর্ঘ অন্ধকার কাটিয়ে বাড়িতে আলো পৌঁছনোর ঘটনায় এলাকাতেও খুশির হাওয়া। বিধায়ক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আবাস যোজনা থেকে উজ্জ্বলা গ্যাস বর্তমান বিজেপি সরকারের সব রকমের সুবিধাই মিলবে অসহায় এই পরিবারের।
  • Link to this news (News18 বাংলা)