• অপারেশন লোটাস ফেল! পাঞ্জাবে গোহারা বিজেপি
    বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পরবর্তী টার্গেট পাঞ্জাব! বঙ্গবিজয়ের পরই লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিল উজ্জীবিত বিজেপি। শুরু হয়ে যায় সেরাজ্যের আম আদমি পার্টির (আপ) সরকারের বিরুদ্ধে ইডি অভিযান। সঙ্গে অপারেশন লোটাসও। প্রচার চলছিল, যে কোনো সময় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে পাঞ্জাবের আপ সরকার ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। কিন্তু বঙ্গবিজয়ের ২৫ দিনের মাথায় সেই পাঞ্জাবেই ধরাশায়ী হল বিজেপি। সেরাজ্যের ১০২টি পুরসভা ও কর্পোরেশনের নির্বাচনে জয়জয়কার কেজরিওয়ালের দলের। কিন্তু তার থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়েছে অতীতের মতোই। অর্থাৎ আগেও পাঞ্জাবের যে কোনো নির্বাচনে বিজেপি চতুর্থ স্থানে ছিল। সাম্প্রতিক পুরভোটেও তার অন্যথা হয়নি। শুক্রবার রাত পর্যন্ত হওয়া গণনায় শিরোমণি অকালি দলের সঙ্গে বিজেপি টক্কর দিচ্ছে তৃতীয় স্থান পাওয়ার জন্য। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের জন্য দুঃসংবাদ হল, পাঞ্জাবের প্রধান যুযুধান দুই দল এখনও আম আদমি পার্টি বনাম কংগ্রেস।

    আজ পর্যন্ত যেসব রাজ্যে গেরুয়া শিবির কোনোদিন সরকারে ক্ষমতাসীন হয়নি, এবার সেগুলিই বিজেপির টার্গেটে। আগামী বছর পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। সেই কারণে বঙ্গভোটের আগেই কার্যত শুরু হয়ে যায় বিজেপির পাঞ্জাব অভিযান। শাসক দল আপের ঘরে হানা দিয়ে একের পর এক এমপিকে দলে টেনে নেয় গেরুয়া শিবির। তার পাশাপাশি কেজরিওয়ালের দলের এমপি, মন্ত্রী, বিধায়ক, নেতাদের বিরুদ্ধে চলেই যাচ্ছে ইডি হানা। উচ্চগ্রামের বার্তা দেওয়া হচ্ছিল যে, আগামী বছর পাঞ্জাবে লড়াই হবে আম আদমি পার্টি বনাম বিজেপির। কিন্তু বাস্তবে সেরাজ্যে ১০২ পুরসভার মোট ১৯৭৭ আসনের মধ্যে আপ একাই প্রায় ১ হাজার আসনে জয়ী হচ্ছে শুক্রবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে। কংগ্রেস কমবেশি ৪৬০ আসন। বিজেপি ২০০ আসন অতিক্রম করতে পারেনি। বরং হাজারের বেশি আসনে বিজেপি প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

    সাধারণত, পুরসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নরেন্দ্র মোদির মাথা ঘামানোর কথাই নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই ফল তাঁর কাছে বড়োসড়ো ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কেন? কারণ, কেরলে বিধানসভা ভোটের ৬ মাস আগে যখন সেখানে পুরভোট হয়েছিল, তখন তিরুবনন্তপুরম পুরসভা দখল করেছিল বিজেপি। আর সেই পুরসভা দখলকে নরেন্দ্র মোদি এতটাই বড়ো সাফল্য হিসাবে বিবেচিত করেন যে, বিবৃতি প্রকাশ করে অভিনন্দন জানান। সুতরাং যে রাজ্যে আগামী বছর ভোট এবং যেখানে মরিয়া হয়ে বিজেপি ঝাঁপিয়েছে, সেখানে বিজেপি যে আদতে জনমনে সেভাবে প্রবেশ করতে পারেনি তা প্রমাণিত হওয়া যথেষ্ট বড় ধাক্কা। পক্ষান্তরে পাঞ্জাবের এই ফলাফল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে অক্সিজেনের মতোই। দিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাঞ্জাবে তাঁর দল ক্রমেই ইডি ও দলবদলের জোড়া ধাক্কায় কোণঠাসা হয়ে পড়ছিল। সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছিল যে, তাহলে পাঞ্জাবের ভোটের পরই আপ নামক এক নতুন রাজনৈতিক এক্সপেরিমেন্টের অবসান ঘটবে? কিন্তু সেই সম্ভাবনা আপাতত প্রতিহত করলেন কেজরিওয়াল। আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল— পাঞ্জাবে পুরভোটে প্রক্রিয়া কী ছিল? ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছে! ইভিএমে নয়।
  • Link to this news (বর্তমান)