নয়াদিল্লি: নিট-ইউজির প্রশ্ন ফাঁস মামলায় শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। সুষ্ঠুভাবে নিট আয়োজনের জন্য তদারকি কমিটি, কড়া নজরদারির ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বড়ো অনিয়ম হল? সেই প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। ইউপিএসসির সঙ্গে তুলনা টেনে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের মতো ত্রুটি কোনোদিন ঘটেনি। ইউপিএসসির কার্যপদ্ধতি থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত এনটিএর। বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে এদিন ছিল প্রশ্ন ফাঁস মামলার শুনানি। এনটিএ-র উদ্দেশে বিচারপতিদ্বয় মন্তব্য করেন, ‘আপনারা যতক্ষণ না ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যা মিটবে না। আপনারা পরীক্ষার্থীদের হতাশ করতে পারেন না। এই ধরনের ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, তাঁদের পরিবারের জন্যও অত্যন্ত আতঙ্কের বিষয়। পরীক্ষার্থীরা এর জন্য নিজেদের উজাড় করে দেন।’ শীর্ষ আদালত আপাতত কিছুদিন তদন্ত প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালাবে বলেও জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
কেন্দ্রের তরফে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা এদিন সুপ্রিম কোর্টে জানান, প্রশ্ন ফাঁসের পরিপ্রেক্ষিতে এবার ব্যক্তিগতভাবে গোটা পরীক্ষা প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ২১ জুন নতুন করে যে নিট-ইউজির আয়োজন করা হচ্ছে, তা নিশ্ছিদ্র রাখার জন্য নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এনটিএর তরফেও হলফনামা দিয়ে এদিন বলা হয়েছে, প্রশ্ন ফাঁস রুখতে তারা শিক্ষামন্ত্রক, ভারত সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছিলেন, ২১ জুন নিটের প্রশ্নপত্র সুরক্ষিতভাবে পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার সাহায্য নেওয়া হতে পারে। গত ৩ মে ডাক্তারিতে ভর্তির অভিন্ন প্রবেশিকা নিট আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগর অভিযোগ ওঠার পর ১২ মে পরীক্ষা বাতিলের কথা ঘোষণা করেন এনটিএ। প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তের জন্য সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়া হয়। এদিন আদালতের তরফে এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে একটি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফের এই মামলার শুনানি হবে।
এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিট সংক্রান্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির প্রধান তথা ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারপার্সন ডঃ কে রাধাকৃষ্ণণ। পরে তাঁকে মনিটরিং কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির কতগুলি সুপারিশ বাস্তবে কার্যকর হয়েছে? এমন কমিটি থাকা সত্ত্বেও যদি প্রশ্ন ফাঁস হয়, তাহলে সুপারিশেই কোনো সমস্যা আছে বা সেগুলি কার্যকর হয়নি। রাধাকৃষ্ণণ অবশ্য জানান, সুষ্ঠুভাবে নিট আয়োজনের জন্য একশোর বেশি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ পরীক্ষা চক্রের জন্যই ছিল ৬০টি। বেশিরভাগ সুপারিশই কার্যকর হয়েছে। কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। প্রশ্ন তৈরির দায়িত্বে থাকেন যাঁরা, তাঁদের দিক থেকেই ফাঁস হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। জানান, সুরক্ষার সেই ফাঁকও দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে। শীর্ষ আদালত জবাবে সাফ জানায়, পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য কোনো স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল থাকা উচিত নয়। বরং স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা উচিত।