জোর করে টাকা তোলার অভিযোগ ইংলিশবাজার পুরসভার বিরুদ্ধে
বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: জঞ্জাল সাফাইয়ের নামে পুরসভার বিরুদ্ধে জোরজুলুম করে টাকা তোলার অভিযোগ ইংলিশবাজার শহরে। এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন শহরের ব্যবসায়ীদের একাংশ। মুখ্যমন্ত্রী অনৈতিকভাবে টাকা তোলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও ইংলিশবাজার পুরসভা জোর করে টাকা তুলছে বলে অভিযোগ মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের। পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর পালটা দাবি, ব্যবসায়ীদের কাছে রাজ্য সরকারের কোনো নির্দেশিকা থাকলে তা আমাকে দেখাক।
রাজ্যে পালাবদলের পর পূর্বতন সরকারের বহু জনবিরোধী নিয়ম পালটে দিয়েছে বিজেপি শাসিত বর্তমান সরকার। সাংবাদিক বৈঠকে একাধিকবার তোলাবাজি, বেআইনিভাবে টাকা তোলা বন্ধের নির্দেশ দিতে শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর পুলিশের তরফে ইংলিশবাজার শহরের বিভিন্ন বাজারে গিয়ে বাজার কমিটিতে বেআইনিভাবে কাউকে টাকা দিতে বারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা টাকা দেওয়া বন্ধ করতেই পুরসভার তরফে তাঁদের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
কয়েকদিন আগে শহরের গৌড় রোডে বসা ব্যবসায়ীদের কাছে পুলিশের তরফে একটি বার্তা দেওয়া হয়। বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন অনৈতিকভাবে টাকা চাইলে ব্যবসায়ীরা যেন না দেন। পুলিশের এই নির্দেশের পরই গৌড় রোডের ব্যবসায়ীরা পুরসভার তরফে আসা কিছু স্থানীয় লোকজনকে টাকা দিতে অস্বীকার করেন। অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা টাকা দিতে অস্বীকার করতেই পুরসভা তাঁদের জঞ্জাল, আবর্জনা সাফ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, শহরের জঞ্জাল সাফাই করার জন্য গাড়ির তেল, চালক, শ্রমিকের প্রতিদিনের খরচ আছে। সেই খরচ বাবদ ব্যবসায়ীদের থেকে একটা সার্ভিস চার্জ নেওয়া হচ্ছে।
শহরের কোঠাবাড়ি পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজয় বণিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু লোক দাদাগিরি করে আমাদের কাছ থেকে জোর করে টাকা তুলছিল। বিনিময়ে কোনো রসিদ দেওয়া হতো না। কোনো পুর পরিষেবাও মিলত না। টাকা না দিলে হুমকি দেওয়া হতো। ব্যবসা বন্ধ, এমনকি মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হতো।
সুজয় বলেন, অনৈতিকভাবে টাকা তোলা বন্ধের দাবিতে আমরা বহুবার পুরসভার সাহায্য চেয়েও কোনো সুরাহা পাইনি। ভোটের পর আমরা সাহস করে টাকা দেওয়া বন্ধ করেছি। তারপর থেকে হুমকি, শাসানি বেড়ে গিয়েছে। বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের সাফ কথা, তাঁরা কাউকে বেআইনিভাবে টাকা দেবেন না। একই বক্তব্য শহরের আরও বেশ কয়েকটি বাজার কমিটির।