উত্তরবঙ্গ মেডিকেল: প্লেটের অভাব, অপারেশন না করে ওটি থেকেই ফেরানো হল রোগীকে!
বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
সংবাদদাতা শিলিগুড়ি: শুক্রবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার না করেই এক রোগীকে ওটি থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে উঠে এল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিয়ে পুরনো অভিযোগ।
রোগী সোনালী বর্মন শালুগাড়ার ডিমা বস্তির বাসিন্দা। পায়ে ও কোমরে গুরুতর চোট নিয়ে গত ২০ মে তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচার করে পায়ে ও কোমরে প্লেট প্রতিস্থাপন করতে হবে। রোগীর বাবা বিমল বর্মনের অভিযোগ, ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের এক ব্যক্তির ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। দাবি করা হয়, ওই ব্যক্তিই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এনে দেবেন। প্রথমে জানানো হয় হাসপাতাল থেকেই সরঞ্জাম পাওয়া যাবে। পরে বলা হয় বাইরে থেকে কিনতে হবে এবং তার জন্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে বলা হয় হাসপাতাল থেকেই সব পাওয়া যাবে। পরে বলে কিছু জিনিস বাইরে থেকে কিনতে হবে। ওই ব্যক্তি অস্ত্রোপচারের দিন সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এদিন ওটিতে শেষ পর্যন্ত তা পৌঁছয়নি। ফলে রোগীকে ওটিতে নিয়ে যাওয়ার পর অস্ত্রোপচার না করেই ফেরত পাঠানো হয়। ঘটনায় রোগীর পরিবার চরম হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ।
এ ঘটনা জানতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। অতিরিক্ত সুপার, ডেপুটি সুপারকে নিয়ে প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বৈঠকে বসেন। হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রোগীর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না থাকায় পরিবারকেই বাইরে থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে আনতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো চিকিৎসক বা নার্সের পক্ষে রোগীর পরিবারকে বহিরাগত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া নিয়মবিরুদ্ধ। এ ব্যাপারে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও একই ঘটনা ঘটায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন করে ওই রোগীর অস্ত্রোপচারের দিন ঠিক করেছে। পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বাইরে থেকেই তাঁদের সংগ্রহ করতে হবে।
রোগীর বাবা বিমল বর্মন বলেন, নার্সিংহোমে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাব বলেই এসেছিলাম। এখন ধারদেনা করেই মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।