নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপক সারিন্দা শিল্পী মঙ্গলাকান্ত রায় প্রয়াত। বৃহস্পতিবার রাতে ময়নাগুড়ির আমগুড়ি পঞ্চায়েতের ধওলাগুড়ির বাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শতায়ু এই শিল্পী। শুক্রবার নিজের বাড়িতেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূর হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়া মঙ্গলাকান্ত বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ভর্তি করেন পরিবারের লোকজন। মঙ্গলাকান্তর গলায় একটি টিউমার হয়েছিল। যার কারণে তিনি ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করতে পারছিলেন না। অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল ওজন। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলাকান্তর মৃত্যুর খবর পেয়ে পদ্মশ্রীকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি এদিন তাঁর বাড়িতে আসেন জনপ্রতিনিধিরা। আসেন ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়ক ডালিম রায়। এর আগে নিজের অ্যাম্বুলেন্সে করে মঙ্গলাকান্তকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করান আরএক পদ্মশ্রী করিমূল হক। এদিনও সকাল থেকে মঙ্গলাকান্তর পরিবারের পাশে ছিলেন তিনি।
গত মার্চে ‘বর্তমান’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মঙ্গলাকান্ত। বলেছিলেন, তাঁকে মাসে ছ’হাজার টাকা করে শিল্পীভাতা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ভাতা পাননি তিনি। এনিয়ে মঙ্গলাকান্তর বড়ো ছেলে উমাকান্ত কার্যত অভিযোগের সুরে সেসময় বলেন, এনিয়ে অনেক ঘোরাঘুরি করেছেন তাঁরা। ব্যাংকে পাশবইও করেন। কিন্তু আখেরে কেন্দ্রের তরফে কোনো শিল্পীভাতা মেলেনি। পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার আগে ২০১৭ সালে রাজ্যের তরফে মঙ্গলাকান্তকে বঙ্গসম্মান দেওয়া হয়।
মঙ্গলাকান্তর তিন ছেলে ও চার মেয়ে। নাতনি মঞ্জু রায় এদিন বলেন, মাস দেড়েক ধরে দাদু অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু তার আগে দিব্যি হাঁটাচলা করতেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে আপন মনে সুর তুলতেন সারিন্দায়। বাড়ি থেকে হেঁটে বাজারে যেতেন। গল্প করতে ভালোবাসতেন।
ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়ক বলেন, মঙ্গলাকান্ত শুধু উত্তরবঙ্গের নয়, গোটা রাজ্যের এমনকী দেশের গর্ব ছিলেন। এদিন শেষশ্রদ্ধা জানাতে পদ্মশ্রীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। প্রশাসনের আধিকারিকরাও ছিলেন। • ফাইল চিত্র।