• বেলডাঙায় পড়শিকে পিটিয়ে খুন, গ্রেপ্তার ৪
    বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বহরমপুর: প্রৌঢ়কে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন মৃতের স্ত্রীও। মৃতের নাম রূপাতন মণ্ডল(৫১)। বাড়ি বেলডাঙা থানার ফতেনগর গ্রামে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। রূপাতনবাবুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বেলডাঙা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে ৭টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর বেলডাঙা থানায় মোট ১৯ জনের নামে তাঁর স্ত্রী দীপালি মণ্ডল স্বামীকে পিটিয়ে খুনের লিখিত অভিযোগে দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এখনো পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় টোটো চালক রূপাতনবাবু বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। জনা চারের বালক-বালিকা তাঁর বাড়ির উঠানে খেলার সময় চিৎকার চেঁচামেচি করছিল। তাতে তাঁর ঘুমের ব্যঘাত ঘটছিল। বিরক্ত হয়ে রূপাতনবাবু তাদের ওখান থেকে চলে যেতে বলেন। এরপরও তারা না যাওয়ায় বাচ্চা মেয়ের হাত ধরে মুচড়ে দেন বলে অভিযোগ। ওই মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি গিয়ে বাবা-মায়ের কাছে নালিশ জানায়। রূপাতনবাবুর স্ত্রী দীপালিদেবী বলেন, এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশী অসিত মণ্ডল দলবল নিয়ে আমার বাড়িতে চড়াও হয়। আমার স্বামীকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে রাস্তায় ফেলে বেধরড় মারধর শুরু করে। লাথি, ঘুসির পাশাপাশি বাঁশ দিয়ে পেটানো হয়। স্বামীকে বাঁচাতে গেলে আমাকে মারধর করা হয়। 

    মৃতের ছেলে ঋজু মণ্ডল বলেন, আমি সে সময় কাজ থেকে ফিরিনি। খবর পেয়ে এসে প্রথমে বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু, আঘাত গুরুতর থাকায় চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাবার মৃত্যু হয়।

    বৃহস্পতিবার রাতেই মুল অভিযুক্ত অসিত মণ্ডল, রিন্টু মণ্ডল, মিন্টু মণ্ডল, অশোক মণ্ডল, বিশ্বনাথ মণ্ডল সহ মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে বাবাকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে আমার মা থানায় লিটিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের ছেলে।
  • Link to this news (বর্তমান)