নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ‘তৃণমূলের ভণ্ড নেতারা, যারা চুরি করত তারাই এখন বিজেপিকে সিগনাল দিচ্ছে। আমরা মমতাকে ছাড়ছি, আপনারা কিন্তু দেখবেন। তৃণমূল হেরে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই এই সমস্ত নেতাদের বোধ বুদ্ধির উদয় হল।’ নিজেদের দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলা বিস্ফোরক তৃণমূল নেতাদের এই ভাষাতেই এক হাত নিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। শুক্রবার বহরমপুরে কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে অধীরবাবু বলেন, তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে পরাজিত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার কোম্পানি হেরেছে। এই কোম্পানিকে ব্যবহার করে চুরিচামারি বাটপারি করে যারা কোটিপতি হয়েছে, তারা এখন আতঙ্কে নিজেদের আর্থিক ও রাজনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অন্য জায়গায় লাইন লাগানোর ব্যবস্থা করছে। তিনি আরও বলেন, যে মমতাকে ভাঙিয়ে তারা কোটিপতি হয়ে গেল। সেই তাঁবেদাররা এখন নিজেদের আসল চেহারা দেখিয়ে দিচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল চোরচোট্টা, বাটপার ছাড়া আর কাউকে পশ্রয় দেয়নি। আজ সেটা প্রমাণ হচ্ছে। কিন্তু যারা এখন নীতি আদর্শের কথা বলে অনেক বড় বড় ভাষণ দিচ্ছে, তারা তো জেনেশুনে এতদিন তৃণমূল দল করেছে। তৃণমূল হেরে যাওয়ার পর স্বীকার করছে, তৃণমূলে অন্যায় ও দুর্নীতি ছিল। হঠাৎ তৃণমূল হেরে যাওয়ার পর তাদের উপলব্ধি হল। হেরে যাওয়ার পর আজ সব স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে যাচ্ছে। ভোটে হারার আগের দিন পর্যন্ত এই কথাটা তাদের মুখে ছিল না। এরা সবাই ভণ্ড । এদের বাজারে কোনো দাম নেই। এরা মমতাকে ভাঙিয়ে খেয়েছে এবং পড়েছে। এখন বাজার খারাপ। তাই এখন বার্তা দিচ্ছে অন্য কোথাও।
যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদেরকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলেই দাবি করেছেন অধীরবাবু। তিনি বলেন, শাসকদলকে এরা বার্তা দিচ্ছে, যে আমরা মমতাকে ছেড়ে দিচ্ছি, আপনারা কিন্তু একটু দেখবেন। এই বার্তাটা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে বলে এখন ওই দলে থেকেই দলের ধান্দাবাজ কিছু রাজনৈতিক নেতা নানা কথা আগ বাড়িয়ে বলছে। এরা সব ক’টা চোর। হঠাৎ করে সবাই সাধু হওয়ার চেষ্টা করছে। দিদি অনেক কবিতা লিখেছেন। এখন এদের নিয়ে একটা গান ও কবিতা লিখতে পারেন।
জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, অধীরবাবু নিজেদের দলের কথা একটু মন দিয়ে ভাবুন। উনি কংগ্রেসকে নিয়ে যত বেশি চিন্তা করেন তার থেকে বেশি তৃণমূলকে নিয়ে চিন্তা দেখছি। এই জন্য কংগ্রেসের এই হাল।