উচ্ছেদের আতঙ্কে সিঁটিয়ে আসানসোল ও কুলটি শিল্পাঞ্চলের গরিব মানুষজন
বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: আসানসোল ও কুলটি শিল্পাঞ্চলজুড়ে এখন উচ্ছেদের আতঙ্ক। ভারতীয় রেল ও ইসকো কর্তৃপক্ষের সাঁড়াশি চাপে ভিটেমাটি ও রুটিরুজি হারানোর ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছে হাজার হাজার অসহায় মানুষ। কুলটি বিধানসভার বালতোড়িয়া অঞ্চলে রেলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিস ধরানো হয়েছে। বার্নপুরে হকারদের দোকান সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের বিরুদ্ধে এবার সরব হয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম। শুক্রবার জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ক্ষোভ উগরে দেয় সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক নেতারা।
রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি খালি না করলে বুলডোজার চালিয়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এই নোটিস ঘিরেই আতঙ্কে রয়েছে বালতোড়িয়ার বহু পরিবার। কংগ্রেস কাউন্সিলার এসএম মোস্তফা বলেন, জমি রেলের হতে পারে। কিন্তু, যারা বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করছে বর্ষার মুখে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া তাদের উচ্ছেদ করা খুবই অমানবিক। রেল কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। বিজেপির বুলডোজার নীতির সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পৈতণ্ডি বলেন, মানুষ বিজেপিকে ভরসা করে ভোট দিয়ে বাংলায় এনেছে। আর আজ সেই বিজেপি অসহায় মানুষদের মাথার ছাদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে। পুনর্বাসন ছাড়া মানুষকে বেঘর করা অপরাধ। রামরাজত্ব স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আজ রাজ্যের দুঃখী মানুষের ঘর ভাঙছে এরা। আরেক কংগ্রেস কাউন্সিলার শাহ আলম বলেন, গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করতে এরা উঠেপড়ে লেগেছে। সাহস থাকলে রেলের জমির উপর গড়ে ওঠা বড় বড় ব্যবসায়ীদের দোকান আর অট্টালিকা উচ্ছেদ করে দেখাক।এদিন জেলাশাসকের দপ্তরে হাজির হওয়া বহু বাসিন্দার চোখে ছিল আতঙ্কের ছাপ। বালতোড়িয়া এলাকার নাথনিদেবী বলেন, বিয়ে হয়ে এখানে এসেছি। সাতপুরুষ ধরে সবাই এখানে থেকেছে। এখন স্বামী-শ্বশুর কেউ নেই। আমি কোথায় যাব? আরেক বাসিন্দা পঞ্চাদেবীর প্রশ্ন, এতদিন বিদ্যুৎ-জল সব দিয়েছে সরকার। তখন তো কেউ বলেনি জমি ছাড়তে হবে। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জিতে গিয়ে এখন আমাদেরই ঘরছাড়া করতে চাইছে। কুলটির পাশাপাশি বার্নপুরেও উচ্ছেদের খাঁড়া নেমে এসেছে হকারদের উপর। ইসকো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বার্নপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা হকারদের তিন দিনের মধ্যে দোকান সরানোর নোটিস দিয়েছে। অন্যথায় বুলডোজার চালানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এদিন সিপিএম নেত্রী শিল্পী চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বার্নপুরের টাউন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান হকাররা। শিল্পী বলেন, হকাররা বছরের পর বছর ধরে এখানে ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন। পুনর্বাসন না দিয়ে হুট করে দোকান ভেঙে দিলে হাজার হাজার পরিবার পথে বসবে। যদি হকারদের জন্য বিকল্প আয়ের বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে ইসকো কর্তৃপক্ষ বুলডোজার চালায় আমরা তা আটকাতে তৈরি আছি।