• সোমেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩০ মে ২০২৬
  • মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিল। শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় পাঁচ মন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর থেকেই কাদের হাতে কোন দপ্তর যাবে, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। একইসঙ্গে মন্ত্রীদের নাম এবং দপ্তর বণ্টন নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    রাজনৈতিক সূত্রে খবর, নতুন ও পুরনো মুখের পাশাপাশি জেলার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩ জন সদস্য নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই মন্ত্রী নির্বাচন করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    গত কয়েক মাস ধরেই রাজ্যের সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী হিসেবে অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যালের নাম রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এমনকী নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সূত্রের খবর, রাজ্যের অর্থ দপ্তর নিজের হাতেই রাখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু অর্থ দপ্তর নয়, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বও তিনি নিজেই সামলাতে পারেন বলে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা রয়েছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ দপ্তর নিজের হাতে রাখার পিছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। রাজ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পোন্নয়ন এবং রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরাসরি নজরদারি রাখতে চান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক খরচের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও অর্থ দপ্তরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে উন্নয়নের রূপরেখা নির্ধারণে এই দপ্তরকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রাখতে চাইছেন তিনি।

    বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কাজ শুরু করতে চাইছে নতুন সরকার। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য শুধু শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন নয়, গ্রামাঞ্চলেও শিল্প ও পরিষেবা খাতের প্রসার ঘটিয়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা। একইসঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    এই প্রেক্ষাপটে অর্থ দপ্তর নিজের হাতে রেখে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের পর রাজ্যের উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও গতিশীলভাবে কাজ শুরু করবে নতুন সরকার—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)