পাহাড়ে তিনটি পুরসভা পরিচালনার দায়িত্বে প্রশাসনিক আধিকারিরা
বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাহাড়ের তিনটি পুরসভায় প্রশাসক হিসাবে তিনজন প্রশাসনিক আধিকারিককে নিযুক্ত করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার নবান্নে পাহাড় নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়ে একমাত্র নির্বাচিত পুরসভা দার্জিলিং। কার্শিয়াং, কালিম্পং ও মিরিক পুরসভায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক পদে বসিয়েছিল বিগত সরকার। নতুন সরকার সেই জায়গায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিযুক্ত করল। এদিনের বৈঠকে পাহাড় নিয়ে আরো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—জিটিএ এলাকায় ৪০০ শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির তদন্ত করবে সিবিআই। তৃণমূল সরকার সিবিআই তদন্ত চায়নি। সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে তারা স্থগিতাদেশ পায়। রাজ্যের বিজেপি সরকার ওই মামলা তুলে নেবে। পাহাড়ে অমৃত প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকার অনিয়মেরও তদন্ত হবে। এজন্য রাজ্য সরকার বিশেষ টিম পাঠাচ্ছে। সাতদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর তদন্ত করবে পুর দপ্তর এবং অভিযুক্ত সংস্থাকে ‘কালো’ তালিকাভুক্ত করা হবে।
শুক্রবার নবান্নের বৈঠকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং ও রোশন গিরি এবং বিজেপি এমপি রাজু বিস্তা ও পাহাড়ের তিনজন বিজেপি বিধায়ক ছিলেন। ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, জিটিএর প্রধান সচিব শ্যামা পারভিন, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের জেলাশাসকরা। ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা জিটিএতে ক্ষমতাসীন। সিইও অনীত থাপা অবশ্য বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। জিটিএর কাজকর্ম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত অর্থবর্ষে তাদের ১৮০ কোটি টাকার ইউসি মেলেনি। এতে সমস্যা হচ্ছে। চলতি অর্থবর্ষে ১৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু অ্যাকশন প্ল্যানের অভাবে টাকা ছাড়া যায়নি। পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তর ছাড়া অন্যকোনো ক্ষেত্রে জিটিএ কোনো কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারেনি। জিটিএর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জল, শিক্ষা, রাস্তা, বাসস্ট্যান্ড এবং পর্যটক উন্নয়নের কাজ হবে। সমস্ত কাজ হবে পুলিশ এবং অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে।
আলোচনা হয়েছে চা বাগানে নিয়েও। পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজ কার্যকর করেনি। ২৫টি চা বাগান বন্ধ। বহু শ্রমিক বেকার হয়ে গিয়েছেন। চা বাগানের উন্নয়নে এবার কেন্দ্রের ৩০০ কোটি টাকার প্যাকেজ কার্যকর করা হবে অসম মডেলে। এদিনের বৈঠকে ছিলেন টি বোর্ডের চেয়ারম্যান। গতবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধিকাংশ বাড়ি এখনো সারানো হয়নি। স্থানীয় এমপি নিজ উদ্যোগে টাকা জোগাড় করে ১০টি বাড়ি সারিয়েছেন। বাকি ৯০টি বাড়ির প্রতিটির জন্য ৩ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য আগাম ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। কালিম্পংয়ে মেডিকেল কলেজের জন্য জমি চিহ্নিত করাসহ স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।