• বিধায়কদের সই নিয়ে শোরগোল তৃণমূলের অন্দরে, বিরোধী দলনেতার পদ মিলবে তো! কাল মমতার বাড়ির বৈঠকে হবে আলোচনা
    বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সই কার? বিধায়কেরই তো? নাকি অন্য কোনো ব্যক্তি বিধায়কের নামে সই করে দিয়েছেন? বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের জন্য তৃণমূল পরিষদীয় দলের বৈঠকে আদৌ বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন? নাকি তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য কেউ সই করে দিয়েছেন? প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে সিআইডি। গোটা ঘটনায় যে প্রশ্নগুলি সামনে এসেছে, তাতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের মধ্যেও চলছে তুমুল আলোচনা। কাল, রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে খবর। বিধায়কদের সই সংক্রান্ত দলের অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে গোটা বিষয়টি যে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, ‘যিনি বিধায়কদের সই সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর পরিষদীয় রাজনীতির নিয়ম-নীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা কম থাকার কারণেই এত বড়ো সমস্যা হয়েছে।’

    ঘটনাটি সামনে আসে বৃহস্পতিবার, যখন তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায় সিআইডির টিম। তারপর জানা যায়, সিআইডির আরও টিম গিয়েছিল তৃণমূল বিধায়ক তাপস মাইতি, বাহারুল ইসলাম, কুণাল ঘোষের বাড়িতেও। শুক্রবার সিআইডি যায় তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহের বাড়িতে। আরও কয়েকজনের বাড়িতে সিআইডি যেতে পারে বলে খবর।  গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। শাসক থেকে তৃণমূল এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। ফলে তৃণমূলের মধ্যে থেকেই একজন বিধায়ক বিরোধী দলনেতা হবেন। তার জন্য ৬ মে কালীঘাটে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। বিধায়করা হাত তুলে সম্মতি দেন। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি চিঠি পাঠান বিধানসভার স্পিকারের কাছে। যেখানে তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোভনদেববাবুকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু যে চিঠি অভিষেক পাঠিয়েছিলেন, তা যথার্থ নয় বলে জানায় বিধানসভার সচিবালয়। বিধায়কদের সম্মতিপত্র চাওয়া হয়েছিল। ১৯মে ফের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন মমতা। তারপর বিধায়কদের সই সহ সম্মতিপত্র ফের বিধানসভায় জমা দেয় তৃণমূল। কিন্তু ওই চিঠিতে বিধায়কদের সই নিয়ে ‘সন্দেহ’ প্রকাশ করেছে বিধানসভা সচিবালয়। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। সূত্রের খবর, ৭০ জন তৃণমূল বিধায়ক সই করেছিলেন। তাঁরা শপথ নেওয়ার সময় যে সই করেছিলেন আর চিঠিতে যে সই করেছেন, তা মিলছে না। এমনকিস তারিখের গোলমালও রয়েছে। ‘সন্দেহ’ আরও বাড়িয়েছে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘তদন্তকারীরা আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, সই আমারই করা কি না। আমি বলেছি, ৬ মে আমি ভাঙড়ে ছিলাম। ওই দিন কোনো বৈঠকে যাইনি।’

    ফলে এখন যা পরিস্থিতি, তাতে আগামী দিনে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার ‘মর্যাদা’ আদৌ দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠে গিয়েছে বিধানসভার অন্দরে। সচিবালয় সবদিক খতিয়ে দেখছে। তৃণমূল বলছে, বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য ৩০ জন বিধায়কের সম্মতি প্রয়োজন হয়। সেখানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা এখন ৮০।
  • Link to this news (বর্তমান)