• বিজেপি ‘সেজে’ কাউন্সিলারদের আক্রমণ তৃণমূলের! বজবজ পুরসভায় শোরগোল
    বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বজবজ: বজবজ পুরসভার মাসিক অধিবেশন ভেস্তে দিল বিজেপি সেজে আসা তৃণমূলীরা! এমনই অভিযোগে শুক্রবার তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আরও অভিযোগ, ‘সেজে আসা’ বিজেপির লোকজন তৃণমূল কাউন্সিলারদের উপর চড়াও হয় এবং মারধর করে। পুলিস জানিয়েছে, বিজেপি নেতৃত্ব ঘটনার কথা জানতে পেরে পুরসভায় ছুটে যায়। তাঁরাই কাউন্সিলারদের উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। চলে আসে বজবজ থানার পুলিশ। বিজেপির মণ্ডল কমিটির পদাধিকারীরা জানান, এদিন পুরভবনের সামনে গিয়ে যারা গোলমাল করেছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে কাউন্সিলারদের হেনস্তা করেছে, তারা কেউ বিজেপির লোক নয়। এরা কয়েকদিন আগে পর্যন্ত তৃণমূল করেছে। শুধু তাই নয়, এদিনের গোলমালে নেতৃত্ব দিয়েছেন বজবজ পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মচারী! যিনি তৃণমূলের ছত্রছায়াতে ছিলেন। বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার সম্পাদক সবিতা চৌধুরী বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কোনো যোগ নেই। এটা তৃণমূলের অতৃপ্ত আত্মাদের কোন্দল। বিজেপির বদনাম করার জন্য আমাদের দলের নাম ভাঙিয়ে এসব করেছে। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে পুলিশকে।’ এদিন ছিল বজবজ পুরসভার মাসিক অধিবেশন। মোট ২০ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যানসহ পাঁচ জন কার্যত বেপাত্তা। বাকি ১৫ জনের মধ্যে একজন প্রয়াত হয়েছেন। একজন অসুস্থ। তাই চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্তসহ ১৩ কাউন্সিলার মাসিক অধিবেশনে যাওয়ার জন্য পুর-হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। আগে থেকেই পুরসভার বাইরে জমায়েত করে একদল লোক। তারা নিজেদের বিজেপি কর্মী বলে দাবি করে। পুলিশ জানিয়েছে, এদিন বিকাল ৩টের সময় চেয়ারম্যান যখন সবাইকে নিয়ে পুরসভায় ঢুকতে যাবেন, সেই সময় তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানের কথায়, ‘কয়েকজন এগিয়ে এসে বললেন, আপনাদের যাওয়া হবে না। কারণ, আপনারা বৈধভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেননি। আমি বললাম, নির্বাচন কমিশন কাউন্সিলারদের সার্টিফিকেট দিয়েছে। তাই এঁরা সবাই বৈধ জনপ্রতিনিধি। কিন্তু ওঁরা মানতে রাজি ছিলেন না।’ শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যানকে যেতে দিলেও বাকি কাউন্সিলারদের পথ আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চেয়ারম্যান ভিতরে যান। বাকি ১২ জন কাউন্সিলার পুর হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। তখন আচমকা বাধাদানকারীদের মধ্য থেকে কিছু লোক তৃণমূল কাউন্সিলারদের উপর চড়াও হয়। কৌশিক রায় সহ কয়েকজনকে কাউন্সিলারকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপি কার্যকর্তারা এসে হামলাকারীদের সরিয়ে দেন। আহত কাউন্সিলারদের উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেন তাঁরাই। পরে পুলিশকে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ঘটনায় পদ্মশিবিরের কেউ যুক্ত ছিল না। যাঁরা এসব করেছেন, তাঁরা সবাই তৃণমূলের লোক। বিজেপি ‘সেজে’ এই ধরনের কাজ করেছেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)