• চন্দননগরে ডেপুটি মেয়র সহ ৬ তৃণমূল কাউন্সিলারের পদত্যাগ, জল্পনা তুঙ্গে
    বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও বারাকপুর: শহর থেকে জেলা— তৃণমূল কাউন্সিলারদের পদত্যাগ অব্যাহত। কোথাও ডেপুটি মেয়র পদ ছাড়লেন। কোথাও আবার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল। ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান সহ আট জন তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগের রেশ কাটার আগেই এবার চন্দননগরের ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল সহ ছ’জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করলেন। ছ’জনই পুরসভার কমিশনারের কাছে ই-মেল মারফত নিজেদের কাউন্সিলার পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন। ভদ্রেশ্বর ও চন্দননগর দু’টি পুরসভাই চন্দননগর বিধানসভার অর্ন্তভুক্ত। যে বিধানসভায় সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে হারিয়ে জিতেছিলেন বিজেপি’র দীপাঞ্জন গুহ। দু’টি পুরসভার ক্ষেত্রে পদত্যাগকারীরা প্রাক্তন মন্ত্রীর বিশেষ ঘনিষ্ঠ ছিলেন। চন্দননগরের এই ডামাডোলের জেরে পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবারের বোর্ড মিটিংও বাতিল করতে হয়েছে মেয়র রাম চক্রবর্তীকে। মেয়র জানিয়েছেন, ডেপুটি মেয়র সহ ছ’জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। তাঁরা চিঠি দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দলের একটি পরিকল্পনা আছে। তা নিয়ে কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠক করব। বোর্ড মিটিং বাতিল হলেও নাগরিক পরিষেবায় সমস্যা হবে না। যদিও তৃণমূল কাউন্সিলাদের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিজেপি এবং সিপিএম সমালোচনায় সরব হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, রাতের অন্ধকারে মুখ লুকিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভোরের আলো ফোটার আগে বেরিয়ে গেলে সন্দেহ তো হবেই। পালিয়ে যাচ্ছেন যখন, তখন কিছু তো গোপন করছে, সেটা স্পষ্ট। সিপিএম কাউন্সিলার অশোক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বোর্ড মিটিং বাতিল হওয়া দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ডেপুটি মেয়রের মতো পদাধিকারী পালিয়ে কেন যাচ্ছেন সেটাই বিস্ময়ের।  এদিকে নথি পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন ভদ্রেশ্বরের ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খান।  তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন পুরসভার ইও। 

    অন্যদিকে, টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা কাউন্সিলর প্রশান্ত চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মহম্মদ জলিল সহ ৬ জন কাউন্সিলার এবং বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পরিষদ সদস্য শুভ্রকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করেছেন। প্রশান্তবাবু বলেন, জনমতের রায় আমাদের বিরুদ্ধে গিয়েছে। তাই শুধু পদ আঁকড়ে থেকে লাভ কি? মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিয়ে আমরা পদত্যাগ করলাম। এছাড়া ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দলের কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি। কি অবস্থার মধ্যে দলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন, তার খোঁজ নেননি। এদিন বৃষ্টির জন্য অনেকে আসতে পারেনি। বাকি কাউন্সিলরাও পদত্যাগ করবেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)