• বিমানবন্দরে মসজিদ, নিরাপত্তার অভাবে পরিষেবায় অনীহা: শমীক
    বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দমদমের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিতরে বহুবছর ধরেই রয়েছে একটি মসজিদ। আর সেটাকেই নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বলে কলকাতায় পরিষেবা চালু করতে চাইছে না ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ। বিশ্বের অন্যতম সেরা বিমান পরিষেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা একথাই জানিয়েছে বলে দাবি করলেন রাজ্যসভার এমপি তথা বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার ইএম বাইপাস লাগোয়া একটি পাঁচতারা হোটেলে মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে একথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কবে থেকে মসজিদটি সেখানে রয়েছে, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে সঠিক তথ্য নেই। একটি সূত্রের দাবি, সেটি উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে রয়েছে। আবার কেউ বলছেন, ১৯৬০ সালের পর থেকে সেটি রয়েছে। তবে, সেটির কারণে রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হচ্ছে। তবে, এসব কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলিকে কলকাতায় আনা হবে।

    ইসলামিক সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বন্দুক, বিস্ফোরক, ডিটোনেটর দেশ এবং রাজ্যে লক্ষ্মী আসার ক্ষেত্রে অন্তরায়। বিনিয়োগ আসার জন্য শান্তি প্রয়োজন। তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, শহরাঞ্চলের ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট সার্বিক উন্নয়ন এবং শিল্পের ক্ষেত্রে বড় একটি সমস্যা। সেটি তুলে দেওয়ার বিষয়ে কথা হচ্ছে। আগের সরকার এসইজেডের বিপক্ষে ছিল। একই সঙ্গে শিল্পপতিদের বাধ্য করা হত সরাসরি জমি কেনার জন্য। তবে, এই সরকার তা করবে না। নতুন সরকার শিল্প আনার জন্য এসইজেড চালু সহ যে কোনও পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত। শিল্পপতিদের জমিও সরকারই ব্যবস্থা করে দেবে। সিঙ্গুরে টাটাদের ফেরানোর জন্য সবাইকেই সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সেখানে একটি ইমিটেশন গয়নার ইন্ড্রাস্ট্রিকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

    কোনও সিন্ডিকেট, শ্রমিক ইউনিয়ন, তোলাবাজির পাল্লায় শিল্পপতিদের পড়তে হবে না, সেই আশ্বাস দেন শমীকবাবু। স্পষ্ট জানান, বিজেপির কোনো শ্রমিক ইউনিয়ন নেই। গেরুয়া ঝান্ডা নিয়ে কারখানার গেটে দাবিদাওয়ার অজুহাতে শিল্পে বাধা দিলে, তাদের স্থান হবে হাজতে। যে কেউ যেখান থেকে কর্মী এবং কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারেন। আবার পাশাপাশি, পরিবেশ বাঁচিয়ে পর্যটন এবং শিল্পের বাধ্যবাধ্যকতাও মনে করিয়ে দেন। একটি বেসরকারি পেট্রকেমিক্যাল এবং লজিস্টিক সংস্থার প্রতিনিধি বলেন, হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অধীনে ১৭ একর জমির জন্য তিন বছর ধরে সরকার এবং সরকারি সংস্থায় ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। তবে তা পাননি। সেটা পেলে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি এবং পরে আরও ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে বলে তাঁর প্রতিশ্রুতি। এর উত্তরে শমীক বলেন, ‘যাক, বিনিয়োগে পাঁচশ কোটির বউনি হল। সরকার নিশ্চয়ই ব্যবস্থা করবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)