হেস্টিংসে শিশুকন্যা মৃত্যুর জের, হাইমাস্টগুলির স্বাস্থ্যপরীক্ষার উদ্যোগ কলকাতা পুরসভার
বর্তমান | ৩০ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের হাইমাস্ট লাইট বা সুউচ্চ বাতিস্তম্ভগুলির স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং মেরামতের উদ্যোগ নিল কলকাতা পুরসভা। এমন কত সংখ্যক লাইট শহরে রয়েছে, সেগুলি ঠিকঠাক করতে কত টাকা খরচ হতে পারে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। পুর-কমিশনারের কাছে জমা পড়বে। সম্প্রতি, হেস্টিংসে হাইমাস্ট বাতিস্তম্ভ থেকে লাইট ভেঙে পড়ে এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। তারপরই পুরসভার এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে। পুরসভা সূত্রে খবর, কলকাতায় ৪০০-র কিছু বেশি হাইমাস্ট লাইটপোস্ট রয়েছে। যদিও গত কয়েক বছরে এই ধরনের বাতিস্তম্ভ খুব একটা বসানো হয়নি। সবটাই পাঁচ থেকে ছ’বছর আগের। কিন্তু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলি অনেক ক্ষেত্রেই অকেজো কিংবা আংশিক কাজ করছে। কোথাও লাইট উপর-নীচে করার দড়ি খারাপ, কোথাও আবার মোটর চুরি হয়ে গিয়েছে। অনেক জায়গায় লাইট খারাপ হয়ে পড়ে আছে, নতুন করে লাগানো হয়নি। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘হাইমাস্ট রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অনেক বেশি। মেরামতির কাজ করতে হলে হাইড্রা ভাড়া করতে হয়। শ্রমিক লাগে। খরচ বেড়ে যায়। সব দিকের খরচ ধরলে একটি হাইমাস্ট ঠিক করতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাগার কথা। বেশ কয়েক বছর আগে যখন এগুলি লাগানো হয়েছিল, তখন রক্ষণাবেক্ষণের খরচের বিষয়টা সেভাবে ভাবা হয়নি। গত কয়েক বছরে একদম মেরামতি হয়নি, তা নয়। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। তবে লাইট খারাপ হলে তা লাগানো হয়েছে। তাই গত কয়েক বছরে হাইমাস্ট লাইটের বদলে মিনি মাস্ট লাগানোতে বেশি জোর দিয়েছে পুরসভা। একটি হাইমাস্ট ১২ থেকে ১৬ মিটার উঁচু হতে পারে। সেখানে সর্বোচ্চ ছ’টি লাইট বা বাতি থাকে। অন্যদিকে, মিনিমাস্ট লাইটগুলি ৯ থেকে ১০ মিটার উঁচু। সেগুলি সারাই করতে হাইড্রা ভাড়া করার দরকার নেই। পুরসভার যে মই রয়েছে, তা দিয়েই হয়ে যায়। রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলক কম।’ আধিকারিকরা আরও জানাচ্ছেন, হেস্টিংসের হাইমাস্ট লাইটটি পুরসভার আওতায় ছিল না। সেটি এইচআরবিসি দেখভাল করত। কিন্তু এই ঘটনার পর পুরসভাকেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। হেস্টিংসের ঘটনার পর হাইমাস্ট লাইটগুলি নিয়ে কমিশনার রিপোর্ট চেয়েছেন। রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। অর্থ বরাদ্দ হলেই সেগুলি সারাইয়ের কাজ শুরু হবে।