জাপানে ভারতীয় আমের ‘No-Entry’! কোন ভুলে এমন ‘শাস্তি’?
এই সময় | ৩০ মে ২০২৬
ভারতের আম রপ্তানিতে বড় ধাক্কা। প্রায় ২০ বছর পরে ফের ভারত থেকে আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাপান। এর ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভারতের জনপ্রিয় আম যেমন আলফানসো, কেশর, ল্যাংড়া এবং বাঙ্গানাপল্লি-র রপ্তানির উপরে। জাপানের খাদ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ ভারতীয় আমের চালানে ত্রুটি খুঁজে পাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাপান সরকারের অভিযোগ, ভারত থেকে রপ্তানির আগে যে ‘ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট’ (VHT) বা বিশেষ তাপ-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আম জীবাণুমুক্ত করা হয়, সেখানে একাধিক গাফিলতি ধরা পড়েছে। মার্চ মাসে জাপানি কোয়ারান্টিন আধিকারিকরা ভারতের একটি ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটি পরিদর্শনে এসে ফিউমিগেশন ও ডিসইনফেকশন প্রক্রিয়ায় ঘাটতি খুঁজে পান। এর পরেই ২০২৬ মরশুমের জন্য ভারতীয় আম আমদানি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাপান বিশেষ করে ফলমাছি বা fruit fly নিয়ে অত্যন্ত সাবধানী। পেস্ট কন্ট্রোলের বিষয়ে জাপান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে। কারণ এই ধরনের পোকা জাপানের কৃষিক্ষেত্রে ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে। তাই সামান্য ত্রুটি ধরা পড়লেও আমদানিতে তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এর আগে ১৯৮৬ সালে ফলমাছির সংক্রমণের অভিযোগে ভারতীয় আমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ‘সূর্যোদয়ের দেশ’। দীর্ঘ ২০ বছর সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। পরে ভারত বিশেষ ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থা চালু করায় ২০০৬ সালে ফের ভারতীয় আমের জন্য নিজেদের দেশের বাজার খুলে দেয় জাপান। তার পরে প্রায় দুই দশক ধরে নিয়মিত আম রপ্তানি করে এসেছে ভারত। এ বার নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতের আম বাণিজ্য।
প্রসঙ্গত, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় আম উৎপাদনকারী দেশ। বছরে প্রায় ২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন আম রপ্তানি করে ভারত। জানা গিয়েছে, এখান থেকে মূলত আলফানসো, কেশর, ল্যাংড়া এবং বাঙ্গানাপল্লি জাতের আম জাপানে রপ্তানি করা হত। যদিও জাপানের বাজার খুব বড় নয়, তবুও এটি একটি প্রিমিয়াম বাজার হিসেবে পরিচিত। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা রপ্তানিকারকদের জন্য আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আম রপ্তানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। ঠিক তখনই পড়ল কোপ।
ব্যবসায়ীদের মতে, এ বছর এমনিতেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়েছে আম শিল্প। তীব্র গরমে উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিমানপথে পণ্য পরিবহণের খরচও অনেক বেড়েছে। তার উপরে জাপানের নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলল বলে আশঙ্কা প্রকাশ এক্সপোর্টারদের।
জাপানের Yokohama Plant Protection Association ইতিমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক নোটিস জারি করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২৫ মার্চ ২০২৬-এর পর ভারতে ইস্যু হওয়া ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেটযুক্ত আমের চালান আপাতত গ্রহণ করা হবে না। যতদিন না ভারতীয় ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটির মান নিয়ে জাপান সন্তুষ্ট হচ্ছে, ততদিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে কবে এই নিষেধাজ্ঞা উঠবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।