‘তৃণমূল আমলে টলিউডে আমি যেভাবে ভুগেছি…’, বিজেপি সরকারে আস্থা দেবের
প্রতিদিন | ৩০ মে ২০২৬
রাজনীতির পিচে তিনি ‘সৌজন্যের পোস্টার বয়’। তৃণমূলের তারকা সাংসদ হয়েও প্রাক্তন শাসকদলের রক্তচক্ষু, নিষিদ্ধ সংস্কৃতির উর্ধ্বে গিয়ে বিজেপি সমর্থক সেলেবদের সঙ্গে সিনেমা করেছেন। এমনকী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, মিঠুন চক্রবর্তীদের মতো পদ্মশিবিরের তারকা মুখদের নিজের ছবিতে কাস্ট করার জেরেও কম বিপাকে পড়তে হয়নি দেবকে! তবু সিস্টেমে থেকে বুক ঠুকে সিস্টেমকে প্রশ্ন করার সাহস রেখেছেন সুপারস্টার। যার জন্যে অবশ্য অনেকের বিরাগভাজনও হতে হয়েছে, কিন্তু দেব বরাবর নিজের শর্তে অটল থেকেছেন। এবার রাজ্যে সরকার বদল হতেই বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে স্বস্তির আবহাওয়া দেখছেন তিনি। দেব নিজেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, বললেও অত্যুক্তি হয় না! কেন?
শুক্রবার রাতে ‘ফেরা’ সিনেমার প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন দেব। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্যত বোমা ফাটালেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ। নতুন সরকারের আমলে টলিউড নিয়ে কতটা আশাবাদী? কিংবা শিল্পী-কলাকুশলীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি যে কার্ড চালু হয়েছে, সেপ্রসঙ্গেই বা কী বলবেন? প্রশ্ন রাখা হয়েছিল অভিনেতার কাছে। জবাবে দেব বলেন, “নতুন সরকারকে সময় দেওয়া উচিত। কারণ এটা তো নতুন সিস্টেম। তাদের মন্ত্রীসভাও এখনও পুরোপুরি ঘোষণা হয়নি। তবে আমার বিশ্বাস, এই সরকার সমস্ত দিক দিয়ে ভালো কাজ করবে। নতুন সরকারের প্রতি আমার এবং গোটা বাংলার মানুষের শুভেচ্ছা রয়েছে। তাই সবাইকে বলব, একটু ধৈর্য ধরুন। সরকার চালানো এত সহজ নয় যে মাত্র একমাসের মধ্যেই সব রেজাল্ট দেখতে পাব। কীভাবে কাজ হচ্ছে, তার ফল দেখার জন্য এই সরকারকেও এক বছর সময় দেওয়া উচিত।” এরপরই টলিউড প্রসঙ্গে দেবের মত, আগের সরকারের থেকে এই সরকার বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো পরিস্থিতি নিয়ে আসবে। সুপারস্টারের সংযোজন, “কারণ আগের সরকারের আমলে (তৃণমূল) আমি যেভাবে ভুগেছি, সেটা এবার অন্তত হবে না বলেই আশা করছি।”
দিন কয়েক আগেই এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। দেব-শুভেন্দু দু’জনেই মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র। সেবিষয়ে তৃণমূলের তারকা সাংসদের কী মত? জানতে চাওয়া হলে হাসিমুখেই দেব বলেন, “ভাল তো! মেদিনীপুর সব সময়ে এগিয়ে ছিল, আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে।” তৃণমূলের রাজ্যপাট ধসে যাওয়ার পর বাংলার নতুন বিজেপি সরকারকে স্বাগত জানিয়ে দেব বলেছিলেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করতে সবসময়ে তিনি সঙ্গে থাকবেন। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিমধ্যেই সক্রিয় শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ পরিকল্পনার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও খবর। পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের আবহে ইন্ডাস্ট্রিতে যেন আর কেউ নিষিদ্ধ না হন, সকলে যেন সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেন, নতুন সরকারের কাছে সেই আর্জিও জানিয়েছিলেন দেব। এবার সেবিষয়েই আশাবাদী তৃণমূলের তারকা সাংসদ।
এগারো সালে বামদূর্গ ধসে যাওয়ার পর তৎকালীন ‘পরিবর্তনের ট্রেন্ডে’ ২০১৪ সালে তৃণমূলের হাত ধরে রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করেন টলিউড সুপারস্টার দেব। সময় যত গড়িয়েছে রাজনীতির পিচে ‘পরিণত দেব’কে দেখে ততোধিক বিস্মিত হয়েছে বঙ্গবাসী। একযুগের রাজনৈতিক কেরিয়ারে সাংসদ হিসেবে পরপর তিনবার হ্যাটট্রিক করেছেন একেবারে নিজস্ব ক্যারিশমাতেই। ১২ বছরের রাজনৈতিক ইনিংসে টলিউড সুপারস্টার দেখিয়ে দিয়েছেন সৌজন্যতা কাকে বলে? একদিকে যেমন প্রচারমঞ্চে কোনোদিন বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে কোনওরকম অপশব্দ প্রয়োগ করেননি, তেমনই রাজনৈতিক সংস্কৃতি কলুষিত করার অভিযোগও কখনও ওঠেনি দেবের বিরুদ্ধে। ইন্ডাস্ট্রির বিজেপি সমর্থক তারকাদের সঙ্গেও তৃণমূলের তারকা সাংসদের সখ্যতা দারুণ।