‘আশা করি, ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন আলো দেখতে পাব’, সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা শিবপ্রসাদের?
প্রতিদিন | ৩০ মে ২০২৬
শেষ দুটো রিলিজ ‘আমার বস’, ‘রক্তবীজ টু’ সফল, কিন্তু উইন্ডোজের যতটা উচ্চতা, সেই পর্যায়ের নয়। এবছরে কতটা প্রত্যাশা? প্রশ্নে অকপট জবাব পরিচালক-অভিনেতা শিবপ্রসাদের।
প্রশ্ন : ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’-র শুটিংয়ে প্রায় একমাস কলকাতার বাইরে কাটিয়ে ফিরলেন। পালাবদলের সময় শহরে ছিলেন না। ফিরে কেমন লাগছে?
- ভালো লাগছে। নতুন বাংলা। আমাদের অনেক আশা রয়েছে।
প্রশ্ন : নতুন সরকারের কাছে ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কী প্রত্যাশা? পালাবদলের প্রভাব কেমন পড়বে?
- এটা কিছুটা সময় গেলে বলতে পারব। ইটস টু আর্লি। আশা করব, সবকিছু যেন ভালো হয়।
প্রশ্ন : থ্রেট কালচার এবং ব্যান কালচার যাবে মনে হয়?
- নিশ্চয়ই যাবে। সেই আশা তো রাখবই। নতুন সরকারের ক্ষেত্রে যেমন ভাবে সবকিছু বদলাচ্ছে, এটাও হবে আশা রাখি। নতুন আলো দেখতে পাব ইন্ডাস্ট্রিতে।
প্রশ্ন : পূর্বতন সরকারের সময় অনেক রাজনীতিকই আপনার ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
- যাঁরা সিনেমা ভালোবাসেন, তাঁরা সবাই আমাদের ছবি ভালোবেসেছেন। আমি প্রত্যক্ষ্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই, কোনওদিন না। যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম, তখনও রাজনীতি করিনি। বিশ্বাস করি, যে জিনিসটা বুঝি না, তার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। যাঁরা আমাদের সিনেমা ভালোবেসেছেন, তাঁরা ডাক্তার, পুলিশ, রাজনীতির মানুষ– নানা ক্ষেত্রের মানুষ। তাঁরা সিনেমার ভক্ত বলেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ।
প্রশ্ন : উইন্ডোজ-এর ২৫ বছর। তার প্রথম ছবিই ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’। আরও কী কী পেতে ইচ্ছে করে?
– আমরা প্রত্যেকবারই নতুন ধরনের সিনেমা নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। ডিটেক্টিভ কোনও চরিত্র নিয়ে ‘উইন্ডোজ’ কাজ করেনি। এটা প্রথম। কিন্তু সেই ডিটেক্টিভ চরিত্রের নেপথ্যেও একটা সোশাল মেসেজ রয়েছে। অঙ্গদান এবং তার মধ্যে সমতা থাকার বিষয়টা। তথ্য যা পাওয়া যায়– পারিবারিক ক্ষেত্রে যখন অঙ্গদানের পরিস্থিতি আসে, আশি শতাংশ ক্ষেত্রে মহিলাদের জোর করা হয়, তারা যাতে অঙ্গদান করে। কিডনির ক্ষেত্রে সেটা আরও বেশি। এইখানে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা আসা উচিত।
প্রশ্ন : ২৫ বছরের জার্নিতে আর কী চাওয়া?
– নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আসতে ইচ্ছে করে। আমরা যেন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারি।আমরা এখনও ওয়েব সিরিজ করিনি। যদি কোনও দিন ওয়েব সিরিজ করি তাহলে দর্শকের যে আস্থা নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি আছে, তা যেন আমরা পরিপূরণ করতে পারি। প্রতিটা সিনেমাতেই যেন নিজেদেরকে আরও নতুন ভাবে ভাঙতে পারি।
প্রশ্ন : অ্যাওয়ার্ড চান না?
– দর্শকের ভালোবাসা সবচেয়ে বড় অ্যাওয়ার্ড আমাদের কাছে। আর আগের বছরে ফিল্ম ফেয়ারে সাতটা অ্যাওয়ার্ড ‘উইন্ডোজ’ পেয়েছে ‘বহুরূপী’র জন্য। সেখানে তিনটে অ্যাওয়ার্ড আমার মনে হয়, এটা ফিল্ম ফেয়ারে রেয়ার। যেখানে একজন মানুষ যে প্রযোজক, অভিনেতা এবং পরিচালক হিসাবে একটা সিনেমার জন্য অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। সেটা আমার পাওয়া হয়ে গিয়েছে। এটার থেকে বড় জিনিস হচ্ছে যে ‘বহুরূপী’র মতো সিনেমা, হেইস্ট ড্রামা, যখন এইরকম সফল হয়, যখন লোকেরা বলে এইটাই আদর্শ বাংলা সিনেমার মডেল ভালো লাগে। ‘বহুরূপী’র গান সাধারণ মানুষ দারুণ উপভোগ করেছেন। নতুন শিল্পীদের আমরা ব্যবহার করেছি। তারা যখন সফল হয়ে যায়, তাদের কেরিয়ার তৈরি হয়, এইগুলো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আজকে আমি চাইব ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ থেকে শ্যামৌপ্তি মুদলি যদি নতুন হিরোইন হিসাবে সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করে এর থেকে ভালো আর কিছু হতে পারে না। একটা সিনেমা তোমাকে কী দিচ্ছে সেইটা বড় কথা নয়। এই সিনেমাতেও আবার কিন্তু আমি নতুন একজনকে লঞ্চ করলাম। সিনেমা রিইউনিয়নের জায়গা। যেখানে অর্জুন চক্রবর্তীকে আবার ফিরিয়ে আনছি। যেখানে আমি রাইমার (সেন) সঙ্গে প্রথমবার কাজ করছি। অনন্যা চট্টোপাধ্যায়কে বহুদিন বাদে ফুল ফর্মে দেখা যাচ্ছে। এই জিনিসটা যদি আমরা করতে পারি এটাই তো দর্শক চায় ‘উইন্ডোজ’-এর কাছ থেকে।
প্রশ্ন : রাজা আর জমিদারবাড়ির গল্প। এই সময়ে দাঁড়িয়ে মানুষের আগ্রহ হবে?
– যখন আমরা ‘কণ্ঠ’ করেছিলাম, তখন সবাই বলেছিল ক্যানসার নিয়ে গল্প তো একদমই চলবে না। ভরা ইলেকশনে ‘কণ্ঠ’ রিলিজ করেছিল। এবং ওই বছরে অন্যতম বড় হায়েস্ট কালেকশন করেছিল ‘কণ্ঠ’।
প্রশ্ন : যে প্রেক্ষিতটা দেখছি, জমিদার বাড়ি, পুরনো দিনের গল্প, নিশ্চয়ই শক্তিশালী অভিনেতারা রয়েছেন, তবে এই যুগে দাঁড়িয়ে…
– আমি তো বারবারই বলেছি, যখন আমি ‘বহুরূপী’ করেছি তখনও একই কথা, যখন আমি ‘হামি’ করেছি তখন লোকেরা একই কথা বলেছে। যে দুটো বাচ্চাকে নিয়ে গল্প! একদম কেউই দেখবে না। প্রথম সিনেমা যখন করেছি তখন এমনও শুনতে হয়েছে, মোটা মা আর ছেলের গল্প কেউ দেখবে না। দেখবে না, দেখবে না (হাসি)।
প্রশ্ন : তার মানে আপনি আত্মবিশ্বাসী?
– আত্মবিশ্বাসী নই। নিজের মনের কথা বলতে চাই। আমি সেটা বলতে পেরেছি। দ্যাটস অল।
প্রশ্ন : কোথাও গিয়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘অন্দর মহল’-এর সঙ্গে মিল পাব?
– বলতে পারব না। যখন আমরা ‘বেলা শেষে’ করেছি তখন কেউ কেউ রিলেট করার চেষ্টা করেছে যে এই সিনেমার সঙ্গে কোন সিনেমার কী রিলেট করা যায়। এটা থাকবেই। প্রত্যেক শুক্রবার ২২-২৭টা করে কনটেন্ট রিলিজ হয়। সারা পৃথিবীর প্রত্যেক প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন তিনটে করে কনটেন্ট রিলিজ হয়। সেখানে কোন কনটেন্টের সঙ্গে কোন কনটেন্টের মিল থাকছে, এটার সঙ্গে ওটা মিল পাওয়া গেল, এমন হতেই পারে। তুমি কিছু করতেই পারবে না।
প্রশ্ন : নন্দিতা-শিবপ্রসাদের শেষ দুটো রিলিজ ‘আমার বস’, ‘রক্তবীজ টু’ সফল ঠিকই। কিন্তু যতটা উইন্ডোজের উচ্চতা, সেই পর্যায়ের নয়। এই বছরে কতটা প্রত্যাশা।
– প্রবলেম হচ্ছে বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিটা তুমি চাইছ ৪০ বলে সেঞ্চুরি করবে। কোনও জায়গায় ৭০ বলে সেঞ্চুরি করছে। তখন এসে বলছ না, এটা ঠিক নয়।
প্রশ্ন : রাজনৈতিক পালাবদলের পরে রং বদলের কথা উঠে আসছে। অভিনেতাদের রাজনীতিতে থাকা উচিত নয়?
– যাঁরা রাজনীতি করেন প্রত্যক্ষভাবে তাঁরা কেন করছেন, কী করছেন তাঁদের নিজেদের বিষয়। একজন অভিনেতা, পরিচালক হিসাবে নিজের বিষয়ে বলতে চাই, সিনেমা ছাড়া আমার জীবনে কিছু নেই। এটাই আমার রোজগার। এবং নিজেকে শিল্পী হিসাবে তৈরি করতেই আমার সারাটা দিন চলে যায়। তাহলে একজন পলিটিশিয়ানেরও কাজ আছে। তারও সকাল থেকে সারা দিনের এনগেজমেন্ট। যদি দুটোই করো তাহলে হয় তুমি একটা প্রফেশনকে ঠকাচ্ছ। সেটা তাঁদের ব্যপার। আমি জানি না এটা সম্ভব কি না। আমি তো পারি না। যাঁরা সময় পাচ্ছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই দুটো জিনিসকে ব্যালেন্স করতে পারছেন।