• চেতলায় পুরনো বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে মৃত্যু অটোচালকের
    eTV Bharat | ৩০ মে ২০২৬
  • কলকাতা, 30 মে: শুক্রে ঘণ্টা দেড়েকের প্রবল ঝড়বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর দাপটে বিপর্যস্ত কলকাতা ও শহরতলীর বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পরে রাজ্যে মোট 7 জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ এমনটাই জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। তাঁর মধ্যে রয়েছেন এক অটোচালকও ৷ চেতলা এলাকায় পুরনো বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় ওই অটোচালকের।

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম প্রবীণ কুমার ঠাকুর। প্রতিদিনের মতো গতকালও দুপুরে অটো চালিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। বাড়ির কাছে অটো রেখে কিছুক্ষণ সেখানেই বসে ছিলেন। ঠিক সেই সময় প্রবল ঝড়ে পাশের একটি আমগাছ থেকে আম পড়তে শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, সেই আম কুড়োতে গিয়েই বিপদের মুখে পড়েন প্রবীণ। আচমকাই পাশের একটি জরাজীর্ণ বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে তাঁর উপর ৷ গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই বাড়িটি বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনার পর ফের শহরের পুরনো ও ভগ্নপ্রায় বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ৷

    মৃতদের পরিবারকে 4 লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের জন্যও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যদিও সেই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

    উল্লেখ্য, গতকালের ঝড়ে মূলত রেলে কাজ করার সময় ইলেকট্রিক শক, আচমকা দুর্বল বাড়ি ভেঙে পড়া এবং খোলা জায়গায় সরাসরি বজ্রপাতের মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলিতেই সাতজনের প্রাণ গিয়েছে বলে খবর ৷ মূলত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি, দক্ষিণ 24 পরগনা, উত্তর 24 পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পুরুলিয়ায় এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সর্বাধিক প্রভাব পড়েছে ।

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে জানা গিয়েছে, আজও দক্ষিণ এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টি-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে । ঘণ্টায় 40 থেকে 50 কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।
  • Link to this news (eTV Bharat)