নবদ্বীপ, 30 মে: নবদ্বীপে একটি ক্লাবঘর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। শুক্রবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ নবদ্বীপের বড়াল ঘাট স্পোর্টিং ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ ৷ সেখান থেকে ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল এবং তন্তুজের বিভিন্ন শাড়ি উদ্ধার করে। সূত্রের খবর, ক্লাবের প্রায় 10টি ঘরে এই সামগ্রীগুলি মজুত করে রাখা হয়েছিল। তারপরই গ্রেফতার করা হয় পুরসভার চেয়ারম্যানকে ৷ শনিবার ধৃত বিমান কৃষ্ণ সাহাকে নবদ্বীপ আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর ৷
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অর্থে বরাদ্দ হওয়া ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রাখা ছিল ৷ ঘটনাস্থল নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার পাড়ায় এবং তাঁর ফ্ল্যাটের পাশেই এলাকা বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ক্লাবটা সম্পূর্ণ তৃণমূল পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার নেতৃত্বে চলে। যদিও এই বিষয়ে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমান সাধারণ মানুষ ও বিজেপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে ৷ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নবদ্বীপ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৷ এরপরই রাত সাড়ে 3টে নাগাদ নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বিজেপি নেতা শঙ্কর দেবনাথ বলেন, "বছরের পর বছর গরীব মানুষের ট্যাক্সের টাকার ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রেখেছে তৃণমূলের পুরসভার চেয়ারম্যান। প্রায় দুই থেকে তিন লরি ত্রাণ সামগ্রী ছিল এখানে। আমরা চাই, এই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা গ্রেফতার হোক এবং তার উপযুক্ত শাস্তি হোক ৷"
বিজেপি নেত্রী সোমা মুখোপাধ্যায় বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের কাছে খবর আসছিল এই ক্লাবে প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছে তৃণমূলের নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে। সেই কারণেই আমরা আজ এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। বহু ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে পাশাপাশি আমরা খবর পাচ্ছি বস্তা করে টাকা রাখা ছিল। সেগুলো যেন প্রকাশ্যে আসে সেই দাবি জানাচ্ছি।"