• রাজ্যে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মৃত 7, নিহতদের পরিবার পিছু 4 লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
    eTV Bharat | ৩০ মে ২০২৬
  • কলকাতা, 29 মে: শুক্রে ​দুপুরের পর থেকে আচমকা প্রবল ঝড়-বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের জেরে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে । এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত অন্তত 7 জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। মূলত রেলে কাজ করার সময় ইলেকট্রিক শক, আচমকা দুর্বল বাড়ি ভেঙে পড়া এবং খোলা জায়গায় সরাসরি বজ্রপাতের মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলিতেই এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে । দেহগুলি ইতিমধ্যেই উদ্ধার করে দ্রুত ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ৷

    মূলত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি—দক্ষিণ 24 পরগনা, উত্তর 24 পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পুরুলিয়ায় এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সর্বাধিক প্রভাব পড়েছে । এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নবান্নে এক বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই বিপর্যয়ে শোকপ্রকাশ করার পাশাপাশি মৃতদের পরিবারগুলিকে অবিলম্বে 4 লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন।

    মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, সমস্ত জেলার জেলাশাসক এবং স্থানীয় বিধায়করা যেন দ্রুত এই সরকারি ক্ষতিপূরণের অর্থ স্বজনহারা পরিবারগুলির হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। শুধু তাই নয়, এই দুর্যোগে যাঁরা আহত হয়েছেন, সরকারি উদ্যোগে তাঁদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদেরকেও যথাযথ আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ​অন্যদিকে, প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জায়গায় বহু পুরনো ও বিশালাকার গাছ উপড়ে পড়েছে । গাছ ভেঙে পড়ার জেরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বা চলন্ত বেশ কয়েকটি গাড়ি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৷ এই ঘটনায় অনেক সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন । শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে ভেঙে পড়া গাছের ডালপালা কেটে সরিয়ে দ্রুত যানজট কাটাতে কলকাতা, হাওড়া এবং বিধাননগর পুলিশ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করে চলেছে । তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে কলকাতা ও বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বিপর্যয় মোকাবিলা দলও।

    রাজ্যের এই সার্বিক দুর্যোগ ও উদ্ধারকাজের পরিস্থিতিটি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে, তিলোত্তমায় একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক গাছ ভেঙে পড়ায় পরিবেশবিদরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন । শহর কলকাতায় সবুজের এই বিরাট ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করে, আগামী দিনে কীভাবে অবশিষ্ট গাছগুলিকে আরও ভালোভাবে রক্ষা করে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে বন দফতর, পরিবেশ দফতর এবং কলকাতা কর্পোরেশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • Link to this news (eTV Bharat)