• দেশে খরার আশঙ্কা? ৬০% কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, বিশেষ সতর্কতা আবহাওয়া দপ্তরের
    এই সময় | ৩০ মে ২০২৬
  • জ্বালানি সমস্যার মাঝেই ভারতের অর্থনীতিতে আরও একটি বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা। চলতি মরশুমে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দপ্তর। IMD জানিয়েছে, পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে চলতি বছরকে খরার বছর হিসেবেও চিহ্নিত করা হতে পারে। যার জেরে দেশের নদী বাঁধ বা জলাধারগুলির জলস্তর হু হু করে কমবে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নীচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ভারতের কৃষি ক্ষেত্র বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াকিবহাল মহল।

    আবহাওয়া দপ্তর স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, এর আগে ৯২ শতাংশ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া দিয়েছিল। কিন্তু নতুন গাণিতিক মডেলে দেখা গিয়েছে, বৃষ্টিপাত ৬০ শতাংশে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতির পিছনে খলনায়ক হলো ‘এল নিনো’ (El Nino)। জলবায়ুর এমন পরিবর্তনের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরের জলস্তর অস্বাভাবিক গরম হয়ে উঠেছে। এর জেরে ভারতে তীব্র গরম এবং মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    ‘এল নিনো’-র প্রভাবে জুন মাস জুড়ে দেশের একাংশে মারাত্মক গরম অনুভূত হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি রাজ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দিন তাপপ্রবাহ বা লু বইতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, বিহার, ওডিশা, ছত্তিসগড়, গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা, হিমাচলপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু। তবে রাজস্থান ও ঝাড়খণ্ডে অন্যবারের তুলনায় কিছুটা কম তাপপ্রবাহ দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, জুন মাসে এই ‘এল নিনো’ কিছুটা দুর্বল থাকলেও সেপ্টেম্বরে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। যার প্রভাব পড়তে পারে দেশের বর্ষাকালের উপরে।

    চলতি মরশুমে মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা আসতেও বেশ কিছুটা দেরি হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর আগে জানিয়েছিল, ২৬ মে-র মধ্যে কেরলে বর্ষা ঢুকে যাবে। তবে এখন মনে করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে যে কোনও দিন সেখানে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। বৃষ্টির এই বিলম্ব এবং ঘাটতির কারণে কৃষকদের ফসল বোনার কাজ পিছিয়ে যেতে পারে। ভারতের অর্ধেকেরও বেশি কৃষিজমি সম্পূর্ণ ভাবে বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মধ্য ও পশ্চিম ভারতের মূল কৃষি বলয় বা ‘Monsoon Core Zone’ এই শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)