নীলাঞ্জন দাস, রায়গঞ্জ
ডিজ়েলের দাম বাড়লেও বাড়েনি বাস ভাড়া। সঙ্গে বেড়েছে ফিটনেস ফি, টোলট্যাক্স, ইনস্যুরেন্স, যন্ত্রাংশের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সবমিলিয়ে জেরবার অবস্থা বেসরকারি বাস মালিকরা। এর প্রভাব এ বার সরাসরি পড়ল যাত্রী পরিষেবায়। উত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন রাস্তায় ইতিমধ্যেই কমে গিয়েছে বেসরকারি বাস। রায়গঞ্জ থেকে ছাড়ে এমন ন'টি লোকাল এবং একটি এক্সপ্রেস রুট মিলিয়ে মোট ৫৬টি বেসরকারি বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা।
বেসরকারি বাস মালিক সংগঠন সূত্রে খবর, লোকাল রুটের মধ্যে রায়গঞ্জ থেকে কালিয়াগঞ্জ ভায়া হেমতাবাদ, রায়গঞ্জ থেকে কালিয়াগঞ্জ ভায়া কুনোর, দুর্গাপুর, রায়গঞ্জ থেকে হরিরামপুর ভায়া ইটাহার, রায়গঞ্জ থেকে পাতনোলিয়া ঘাট ভায়া দুর্গাপুর, রায়গঞ্জ থেকে বাঙালবাড়ি ভায়া হেমতাবাদ, রায়গঞ্জ থেকে ভরতপুর ভায়া সমসপুর, বিষ্ণুপুর রুটে বাস বন্ধ। এ ছাড়াও রায়গঞ্জ থেকে বিন্দোল ভায়া বারোদুয়ারি, রায়গঞ্জ থেকে রসাখোয়া ভায়া বোতলবাড়ি, রায়গঞ্জ থেকে চাকুলিয়া ভায়া কানকি রুটে বন্ধ হয়েছে বাস। এক্সপ্রেস রূটের মধ্যে রায়গঞ্জ থেকে কোচবিহার রূটের বাস বন্ধ রয়েছে।
এই মুহূর্তে পাঁচটি লোকাল ও পাঁচটি এক্সপ্রেস রুটে বেসরকারি বাস চালু রয়েছে। যেখানে ৪২টি বাস রানিং। শনি, রবি এবং ছুটির দিনে ৪৫-৫০টি গাড়ি চলাচল করছে বলে খবর। উত্তর দিনাজপুর বাস-মিনিবাস ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্লাবন প্রামাণিক বলেন, 'আমাদের সংগঠনের আওতায় এক সময়ে মোট ১৬০টি বাস চলত। দীর্ঘদিন ভাড়া বাড়েনি। অথচ ডিজ়েলের দাম বাড়তেই থাকছে। এ ছাড়াও আনুষঙ্গিক খরচও বেড়েই চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে মালিকদের খরচই উঠছে না। তার উপরে বাসকর্মীদের ঠিক করে বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাঁরাও অন্য কাজে যুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। এই সমস্ত কারণেই আমরা ন'টি লোকাল এবং একটি এক্সপ্রেস রূট মলিয়ে মোট ৫৬টি বাস একেবারেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি।'
বাসের বয়স ১৫ বছরের বেশি হলে সে ক্ষেত্রে ফটনেস ফি ৩০,০০০ টাকা। টোল-ট্যাক্স বাবদ ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৬০০ টাকা হয়েছে। ইন্স্যুরেন্স বেড়েছে ৪০ শতাংশ এবং যন্ত্রাংশের দাম ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্লাবন বলেন, 'দ্রুত ভাড়া না-বাড়ালে এবং ডিজেল ও আনুষঙ্গিক খরচ নিয়ন্ত্রণে না-আনলে আগামীদিনে বেসরকারি বাস পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।' বিন্দোলের বাসিন্দা সুবল সাহা, মহম্মদ নাসিরুদ্দিন নিয়মিত বেসরকারি বাসে যাতায়াত করেন। তাঁরা বলছেন, 'আমাদের রুটে বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। খুব সমস্যায় পড়েছি। টোটো করে ভাটোল গিয়ে সেখান থেকে বাস ধরতে হচ্ছে। এতে খরচও বেড়েছে।' এ নিয়ে আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।