• গ্রেপ্তার বসিরহাট পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার, দুর্নীতি ও কাটমানির অভিযোগ
    এই সময় | ৩০ মে ২০২৬
  • দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার বসিরহাট পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার গোপাল দাস। শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে আবাস যোজনার ঘর দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসছে। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

    সূত্রের খবর, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত গোপাল দাসের বাড়ি গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলার অনেকের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়েছেন। এর পরে কেউ ঘর পেয়েছেন, আবার কেউ বঞ্চিত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বসিরহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয়রা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুক্রবার রাতে গোপাল দাসকে গ্রেপ্তার করে বসিরহাট থানার পুলিশ।

    প্রসঙ্গত, ধৃত কাউন্সিলার গোপাল দাসের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর আগে তিনি বাংলাদেশ থেকে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এ দেশে আসার পর তিনি ভ্যাবলা স্টেশনের রেল লাইনের ধারে বেআইনি ভাবে বসবাস শুরু করেন। এর পরে ধীরে ধীরে তৎকালীন শাসক দল সিপিএম নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। সিপিএম নেতাদের হাত ধরেই তিনি ভারতীয় পরিচয়পত্র-সহ একের পর এক জরুরি সরকারি নথি জালিয়াতি করে তৈরি করে নেন বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে তিনি সিপিএমের টিকিটে দাঁড়িয়ে প্রথমবার কাউন্সিলার নির্বাচিত হন।

    রাজ্যে বামফ্রন্টের পতনের পরে গোপাল দাস দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। তিনি পর পর দু'বার তৃণমূলের টিকিটে কাউন্সিলার হন। সেই সুবাদে তিনি এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পুরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত তোলা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি আবাস যোজনার ঘর দেওয়া থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে কাটমানি নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে থানায় জমা পড়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)