খড়্গপুরে মর্নিং ওয়াকে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার তিনি দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ভোটের পর থেকে কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত প্রধানরা অফিসে আসছেন না। কারণ তাঁরা এত দুর্নীতি করেছেন, যে রাস্তায় পাবলিক অ্যাটাক করছেন। সমস্ত সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়েছেন তাঁরা। ছেলেদেরকে লক্ষীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হয়েছে। সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই আজ সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।’
এ দিন তিনি তৃণমূল সরকারের আমলে মহিলাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্প নিয়ে এত প্রচার করা হতো, সেখানেই বাল্যবিবাহের হার বেশি। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
রাজ্যের পঞ্চায়েত-গ্রামোন্নয়ন ও প্রাণী সম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এ দিন ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, ‘থ্রেট কালচার একটা বড় ইস্যু ছিল এ রাজ্যে। পুলিশ, SDO, BDO-রা কেউ কাজ করতে পারতেন না। তাঁদের চমকানো হতো। কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ জোগাড়ে ছিল, কেউ আবার মুরগি বিক্রি করতেন। তাঁরাই কাউন্সিলার, প্রধান, চেয়ারম্যান হয়েছেন। আঙুল ফুলে কলা গাছ নয়, ফুল বটগাছ হয়ে গিয়েছে। সবকিছুর তদন্ত হবে।’
রাজ্যে পালা বদল হতেই শিল্প-সংস্কৃতি জগতের বহু মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘কিছু শিল্পী রয়েছেন যাঁরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গুণগান করতেন, তাঁরাই এখন মুখ খুলছেন। পেটের জন্যই গিয়েছিলেন সবাই। কারণ ওই পার্টির ঝান্ডার তলায় না গেলে কেউ কাজ পাবেন না। যাঁরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা কেউ কাজ পাননি। শিল্পীরা কী করবেন, তাঁদের তো কিছু করার নেই। তাঁদের তো করে খেতে হয়।’