রেফার রোগ দূর করতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের নয়া বিজেপি সরকারের। রেফার সমস্যা মেটাতে এ বার যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চলেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর, তা একেবারে স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলা হাসপাতালে অনিয়ম রুখতে লাইভ মনিটারিংয়ের ব্যবস্থা ও কন্ট্রোল রুম গড়ারও ঘোষণা করলেন তিনি। একইসঙ্গে রেফার সংখ্যা কমাতে বেড বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রস্টার মেনে স্বচ্ছ ভাবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োগ করবে সরকার বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রের সহযোগিতায় শনিবার থেকে রাজ্যে শুরু হয়ে গেল বিনামূল্যে সারভাইক্যাল ক্যান্সারের প্রতিষেধক টিকাকরণ কর্মসূচি। বিধাননগর হাসপাতাল থেকে গোটা রাজ্যে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে SSKM হাসপাতালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ইউনিটের উদ্বোধন করেন তিনি। সেই সঙ্গে গত তিন সপ্তাহে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নতুন সরকার কী কী করেছে, সেই খতিয়ানও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘স্বাস্থ্য ভবনে একটি কন্ট্রোল রুম তৈরি হচ্ছে। যেখানে জেলা হাসপাতালগুলির উপর লাইভ মনিটারিং করা হবে। হাসপাতালে দালাল চক্র আছে কি না। ডাক্তাররা আছেন কি না। রোগীরা বেডে আছে কি না। কুকুর-বেড়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে কি না, সব নজরে রাখা হবে। এটা সরাসরি দেখতে পেশাদার কর্মীদের রাখা হবে।’ একইসঙ্গে রোগী রেফারের জন্য ইতিমধ্যেই কলকাতা মেডিক্যালের MSVP-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানালেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী রোগী রেফার রুখতে নেওয়া পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে রাজ্য সরকারের থেকে এক টাকায় জমি নিয়ে গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে নিয়েও বিশেষ সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এইসব বেসরকারি হাসপাতালগুলির ১৫ শতাংশ বেড সাধারণ মানুষ, অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল মানুষদের জন্য রাখতে হবে। তিনি বলেন,‘রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লে, সে সময়ে ওই বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগী পাঠানো হলে, তাদের ভর্তি নিতে হবে। এ ছাড়া বিনামূল্যে ওই রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হবে বলেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বহু প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জুড়েছে বাংলা। শুধু অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল মানুষদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবাই নিশ্চিত করা নয়, সস্তায় ওষুধ পাওয়ার ব্যবস্থাও করছে রাজ্য সরকার। এদিনের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে এ বছরের জন্য ৯৭৬ কোটি টাকা কেন্দ্র বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,‘শীঘ্র রাজ্যের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ পরিবার ও ৬ কোটি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা হবে।’
এই মানুষরা গোটা ভারতেই নির্দিষ্ট হাসপাতালগুলিতে পাঁচ লক্ষ টাকার বিমা সুরক্ষা পাবেন বলে জানান তিনি। যে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকেরা বাইরের রাজ্যে কাজ করেন, তারাও আয়ুষ্মান ভারত-এর সুবিধা পাবেন বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালগুলির নাম হবে আয়ুষ্মান মন্দির। এখানে সবাইকে চিকিৎসা করা হবে। কারও মাসে ওষুধ কিনতে ১০০০ টাকা খরচ হলে এখানে ১০০ টাকায় ওষুধ দেওয়া হবে।’ এ ছাড়া রাজ্যে ৪৬৭টি প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র চালু হওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। একইসঙ্গে শীঘ্র অমৃত প্রকল্পে ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য রোগের ওষুধও ৩০ শতাংশ ভর্তুকিতে পাওয়া যাবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু আয়ুষ্মান ভারতের বাস্তবায়নই নয়, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডা ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ বছর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ন্যাশনাল হেলথ মিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর জন্য কেন্দ্রের তরফে বরাদ্দ ২১০৩ কোটি টাকার মধ্যে ৫২৭ কোটি টাকা হাতে পেয়ে গিয়েছে রাজ্য সরকার বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।