সরকারি হাসপাতালে অসুস্থ যুবকের মর্মান্তিক পরিণতি, গাফিলতির অভিযোগে তুলকালাম কাণ্ড
News18 বাংলা | ৩০ মে ২০২৬
চূড়ান্ত অমানবিকতার ছবি সরকারি হাসপাতালে। অভিযোগ, প্রায় আধ ঘন্টা ধরে বাথরুমে পড়েছিল যুবক। পরিবার ডাকাডাকি করলে কেউ এগিয়ে আসেনি। অবশেষে মৃত্যু হয় যুবকের। মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ পরিবারের। উত্তেজনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান বিজেপি বিধায়ক ও বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। মৃত্যু হয়েছে এক তরতাজা যুবকের। হাসপাতালের গাফিলতি নিয়ে চরম ক্ষোভ পরিবার এবং এলাকাবাসীর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় শান্তিপুর থানার পুলিশ।
মৃত যুবকের নাম রাজকুমার ঘোষ, বয়স আনুমানিক ৩৬ বছর। জানা যায় শান্তিপুর থানার কাশ্যপ পাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজকুমার ঘোষ। শুক্রবার সকালে তিনি সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অসুস্থতা বোধ করেন। এরপর নিজেই হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিলে রাস্তার মাঝপথে সাইকেল থেকে পড়ে যান। খবর পেয়ে তাঁর মা ছুটে গিয়ে সেখান থেকে টোটো করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে তাঁকে দেখভালের মধ্যে রাখা হয়। এরপরেই নিজে থেকে রাজকুমার ঘোষ বাথরুম যাবে বলে জানান। কিন্তু বেড থেকে তার ওঠার ক্ষমতা ছিল না। তাঁর পরিবারে তরফে বিষয়টি চিকিৎসক এবং নার্সদের জানানো হয়। কিন্তু তাঁরা বলেন কিছু করার নেই। বেড থেকে অনেকটা দূর বাথরুমে নিয়ে যেতে হবে।
এরপরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্যালাইন খুলে দেয় বলে অভিযোগ। কোনওরকমে রাজকুমার ঘোষের মা এবং দিদি দুইজনে ধরে তাঁকে বাথরুমে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে বাথরুমে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন রাজকুমার ঘোষ। সেখানেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপরেই অনেক চেষ্টা করে না তুলতে পারলে অবশেষে তার মা এবং দিদি কান্নাকাটি করে সকলকে ডাকার চেষ্টা করে। পরিবারের অভিযোগ কিন্তু তাঁদের ডাকে কোনও সরকারি কর্মী বা নার্স, এমীকি চিকিৎসক কেউ এগিয়ে আসেন নি। প্রায় আধা ঘন্টা বাথরুমেই পড়েছিলেন রাজকুমার ঘোষ। এরপরে নিরুপায় হয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হাসপাতালে এসে বাথরুম থেকে তাঁকে বেডে নিয়ে আসেন। তার কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসকরা রাজকুমার ঘোষকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপরেই হাসপাতালের চূড়ান্ত গাফিলতি এবং অব্যবস্থা নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। তাদের দাবি চিকিৎসকসহ যাঁরা কর্তব্যরত ছিলেন, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাঁরা বলেন সুস্থ একজন মানুষ কিছুটা শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। কিন্তু এখানে এসেই তাঁর মৃত্যু হল। এই মর্মে শান্তিপুর হাসপাতাল সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় পরিবারের তরফে।
মৃত রাজকুমার ঘোষের পরিবারের দাবি, আমরা এতবার করে বললাম যে বেড থেকে ওঠার ক্ষমতা নেই। কিন্তু তবুও নার্স এবং কর্মরত চিকিৎসকরা বললেন ওকে বাথরুমেই নিয়ে যেতে হবে। আমরা কত কষ্ট করে ওকে বাথরুমে নিয়ে গেলাম। বাথরুমে গিয়ে পড়ে গেল। চিকিৎসার গাফিলতির ফলেই রাজকুমারকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, চিকিৎসক নার্স সহ এবং যাঁরা কর্মরত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের শাস্তি হোক। যদিও খবর পেয়ে শান্তিপুর হাসপাতালে ছুটে যান শান্তিপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক স্বপন কুমার দাস, কথা বলেন পরিবারের সঙ্গেও।