লাঠি হাতে চোলাই ঠেক ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল মহিলারা, মা-বোনেদের 'রণচণ্ডী' রূপে ভয়ে কাঁপছে কারবারিরা
News18 বাংলা | ৩০ মে ২০২৬
সংসার বাঁচানোর লড়াইয়ে এবার রাস্তায় নামলেন গ্রামের মহিলারা। কারও স্বামী, কারও ছেলে, কারও আবার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য চোলাই মদের নেশায় হারিয়ে গিয়েছে। বিষাক্ত মদের ছোবলে বহু পরিবার ভেঙেছে, বহু ঘরে নেমেছে অন্ধকার। সেই ক্ষোভ, যন্ত্রণা আর প্রতিবাদ একসঙ্গে বিস্ফোরিত হল পুঞ্চা ব্লকের কৈড়া গ্রামে। হাতে লাঠি, মুখে প্রতিবাদের স্লোগান নিয়ে শতাধিক মহিলা ঝাঁপিয়ে পড়লেন কাঁসাই নদীর সেতু সংলগ্ন কৈড়া নদীঘাট এলাকায়।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছিল অবৈধ চোলাই মদের কারবার। নদীর পাড় জুড়ে গড়ে উঠেছিল একের পর এক মদের ঠেক। প্রশাসনের নীরবতাকে প্রশ্ন তুলে এদিন অভিযানে নামেন গ্রামের মহিলারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীর ধারে ঝোপঝাড় ও নির্জন এলাকায় লুকিয়ে রাখা মদের ভাঁড়ার খুঁজে বের করে ভেঙে দেন মহিলারা। উদ্ধার হয় আনুমানিক ৩০ লিটার চোলাই মদ এবং কয়েকশো লিটার মদ তৈরির কাঁচামাল। অনেক জায়গায় মাটিতে ঢেলে দেওয়া হয় মদ, ভেঙে ফেলা হয় তৈরির সরঞ্জাম।
বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, চোলাই মদের কারণে গ্রামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে। দিনমজুরির টাকা মদের আসরে উড়ে যাচ্ছে, সংসারে বাড়ছে অশান্তি। তরুণ প্রজন্মও নেশার জালে জড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, বিষাক্ত চোলাই মদ পান করে এলাকার একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, তবুও অবৈধ কারবার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
পুলিশ উদ্ধার হওয়া মদ বাজেয়াপ্ত করে এবং মদ তৈরির কাঁচামাল ধ্বংস করে দেয়। এদিনের ঘটনায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন কৈড়া গ্রামের মহিলারা। তাঁরা বলেন, সংসার ধ্বংসের এই ব্যবসা আর চলতে দেওয়া হবে না। তাঁদের হুঁশিয়ারি, প্রশাসন যদি স্থায়ীভাবে চোলাই মদের কারবার বন্ধ করতে না পারে, তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। কাঁসাই নদীর পাড়ে এদিন শুধু মদের বিরুদ্ধে অভিযান নয়, দেখা গেল গ্রামীণ নারীদের এক বিরল সামাজিক জাগরণ। নিজেদের পরিবার ও আগামী প্রজন্মকে বাঁচানোর লড়াইয়ে তাঁরা যে আপসহীন, সেই বার্তাই ছড়িয়ে পড়ল গোটা এলাকাজুড়ে।