ভাইয়ের দেহ সৎকারের ক্ষমতাও ছিল না ছোট্ট দিদির, দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন মর্গ কর্মী
News18 বাংলা | ৩০ মে ২০২৬
পরিবারে ছিল না মা-বাবা। তাই নিহত কিশোরের দেহ সৎকারের দায়িত্ব নিলেন মর্গের কর্মী। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সুতিতে। মানবিক নজির করলেন জঙ্গিপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক অস্থায়ী কর্মী বিক্রম গঙ্গাপুত্র। এক কিশোরের জলে ডুবে নিহত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। নিহত কিশোরের নাম আদেশ পেটলি। বাড়ি বর্ধমান জেলার জামুরিয়া গ্রামে।
জানা গিয়েছে, আদেশ পেটলির মা-বাবা না থাকায় দিদিকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেই চলত জীবনযাপন। সুতির আহিরণ ব্যারেজ এলাকায় পাখি শিকার করতে গিয়ে আচমকা জলে পড়ে যায় ওই কিশোর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কিশোরের। তারপরেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। কিশোরের দিদি করিশ্মা পেটলি জানিয়েছেন, পাখি শিকার করতে গিয়েই জলে ডুবে ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
দেহ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও আমাদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা ছিল না। তখনই হাসপাতালের মর্গের কর্মী বিক্রম গঙ্গাপুত্র বিষয়টি জানতে পারেন। তখনই এগিয়ে আসেন বিক্রম। এগিয়ে এসে সৎকারের সমস্ত দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বিক্রম গঙ্গাপুত্র জানিয়েছেন, জলে ডুবে কিশোরের মৃত্যুর পর দেহ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। দেহ পরিবারের হাতে তুলে দিতে গিয়ে জানতে পারি তাদের কাছে কোনও টাকা নেই। প্রথমে দেহ নিতে অস্বীকার করছিলেন।
পাখি ধরেই চলে সংসার তাদের। আমি দেহ সৎকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করি। তখনই দেহ সৎকারের জন্য শশ্মানে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনা সামনে আসতেই বিক্রমের বন্ধুমহল বাহবা দিয়েছে। বিক্রমের বন্ধু শুভঙ্কর হালদার জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে দেহ ময়নাতদন্ত করেন বিক্রম। আমরা জানতে পারি একজন কিশোর পাখি শিকার করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়। পরিবারে আর্থিক সামর্থ্য ছিল না দেহ সৎকারের। তখনই এগিয়ে এসে বিক্রম সৎকার ব্যবস্থা করেন। এটাতে আমরা কুর্নিশ জানাই তাঁকে।