শনিবার দুপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এ হাজির হয় চার সদস্যের একটি সিআইডি টিম। সেই সময়ে ওই বাড়িতে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন না। এর পরে সেখান থেকেই কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনে যান সিআইডি আধিকারিকরা। অভিষেকের হাতে একটি নোটিস দেওয়া হয়। এর পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, ‘আমি একটি নোটিস পেয়েছি। সেটি এখনও পড়ে দেখিনি। বিষয়টি নিয়ে আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। তদন্তে কোনও সহযোগিতার জন্য ডাকলে আমি যাব।’ সূত্রের খবর, আগামী সোমবার ভবানী ভবনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূলের পরিষদীয় দলের চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সাক্ষরে অসঙ্গতি মেলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করছে সিআইডি। সিআইডি আধিকারিকেরা চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম এবং ডোমজুডের বিধায়ক তাপস মাইতির বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়েছিলেন। বিধানসভায় সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলাতেই সোমবার অভিষেককে ভবানীভবনে তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এ দিন দুপুরে বেলেঘাটায় ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত এক তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। সেই সময়েই ‘শান্তিনিকেতন’-এ হাজির হন সিআইডি আধিকারিকরা। বেলেঘাটা থেকে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে অভিষেক সংবাদমাধ্য়মকে জানান, তিনি বর্তমানে ‘শান্তিনিকেতন’-এ থাকেন না। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেই কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে আসতে হবে সিআইডি-র আধিকারিকদের। এর পরে সেখানেই যান সিআইডি আধিকারিকরা।
সিআইডি হানা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিষেক বলেন, ‘সিআইডি কী? আমি এদের ইডি-সিবিআইয়ের সামনেও মাথা নত করিনি। এদের ১০ পুরুষও যদি চায়, আমাকে সিআইডিকে দিয়ে, কেএমসি দিয়ে, ইডি দিয়ে, বাড়ি ভেঙে যা ইচ্ছা করে নিক। আমি দমে যাওয়ার ছেলে নই। দিল্লির কাছে মাথা নত করার আগে আমার মৃত্যু ভালো।’ তখনই সাংবাদিকদের অভিষেক জানিয়ে দেন, এ দিন সোনারপুরে দলীয় কর্মীর বাড়িতে দেখা করতে যাবেন তিনি।