• মাছ চুরি করতে গিয়ে গ্রেপ্তার তৃণমূলের কাউন্সিলর
    আজকাল | ৩০ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভেড়ি থেকে মাছ চুরি করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল কাউন্সিলর। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে।

    সেখানকার কাউন্সিলর বরুণ সরকারকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ক হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যে ছড়ায়। 

    ওই তৃণমূল কাউন্সিলর স্থানীয় একটি মাছের ভেড়ি থেকে মাছ চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

    স্থানীয় বাসিন্দারা কাউন্সিলরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে কাউন্সিলরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। 

    এরপর মাছ চুরির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোররাতে এলাকার একটি মাছের ভেড়িতে কয়েকজনকে নিয়ে যান কাউন্সিলর বরুণ সরকার।

    অভিযোগ, সেখানে ভেড়ির মালিক বা দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অনুমতি ছাড়াই মাছ তোলা হচ্ছিল। ভোরের দিকে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় কয়েক জনের।

    এরপরই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউন্সিলরকে ঘিরে ফেলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ভেড়ি থেকে প্রভাব খাটিয়ে মাছ তুলে নেওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে এদিন নাকি কাউন্সিলরকে সরাসরি মাছ তুলতে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ। 

    প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কাউন্সিলরের সঙ্গে আরও কয়েক জন ছিলেন। সেখান থেকে মাছ তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। যদিও এই বিষয়ে ধৃত কাউন্সিলরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েক জন বাসিন্দা জানান, ভোরের অন্ধকারে মাছ তোলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার মানুষ একত্রিত হন। ওই তৃণমূল কাউন্সিলরকে আটকে রেখে প্রতিবাদ শুরু হয়।

    স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সাধারণ মানুষের সম্পত্তি বা এলাকার ভেড়ি থেকে এভাবে প্রভাব খাটিয়ে মাছ তুলে নেওয়া মেনে নেওয়া যায় না। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হওয়ায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। 

    কাউন্সিলরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মাছ চুরির মামলা রুজু করে বরুণ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মাছের ভেড়ির মালিকপক্ষের অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    প্রয়োজন হলে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হতে পারে। কাউন্সিলরের সঙ্গে আর কারা ছিলেন, তাঁদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

    শনিবার সকালের পর থেকেই রাজপুর-সোনারপুর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মাছ চুরির অভিযোগে এক জনপ্রতিনিধির গ্রেপ্তারি নিঃসন্দেহে বিরল ঘটনা বলেই মনে করছেন অনেকেই। এখন দেখার, তদন্তে ঠিক কী উঠে আসে এবং আদালতে এই মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়।
  • Link to this news (আজকাল)