• প্রাক্তন মন্ত্রীর বাসভবন থেকে উদ্ধার পাচার সামগ্রী!
    আজকাল | ৩০ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্কঃ এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং মধ্য হাওড়ার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক অরূপ রায়। তাঁর বাসভবন সংলগ্ন গুদামঘর থেকে প্যাকেটভর্তি  ত্রিপল, কম্বল, সাইকেল এবং হকিস্টিক-সহ একাধিক খেলার সরঞ্জাম পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। অভিযোগ তুলে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই গুদামেই রাখা ছিল এমএলএ ল্যাড-এ পাওয়া ত্রিপল, কম্বল, সাইকেল এবং হকিস্টিক ও অন্যান্য জিনিস। ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শিবপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই গুদামে থাকে বিধায়ক অরূপ রায়ের পাওয়া এমএলএ ল্যাড ও বিভিন্ন প্রকল্পে পাওয়া জিনিসপত্র। গতকাল রাতে এলাকার এক বাসিন্দা লক্ষ্য করেন, ওই গুদামঘর থেকে লরিতে করে একের পর এক বস্তা বোঝাই করা হচ্ছে।  সন্দেহ হওয়ায় তিনি বাকিদের খবর দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে লরিটি আটকে দেন। বস্তা খুলতেই বেরিয়ে আসে ত্রিপল, শীতকালীন কম্বল, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ সাইকেল, উইকেট এবং হকিস্টিক।  মুহূর্তে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

    বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে 'সরকারি সম্পত্তি চুরি ও পাচারের বড়সড় ছক' বলে দাবি করা হয়েছে। মধ্য হাওড়ার বিজেপি কনভেনার শিবশংকর সাঁধুখা সরাসরি তোপ দেগে বলেন, "লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারি ত্রাণ এবং স্কুল স্তরের ক্রীড়া সামগ্রী অন্যত্র পাচার করার উদ্দেশ্যেই এখানে মজুত করে রাখা হয়েছিল। এই দুর্নীতির পেছনে স্থানীয় বিধায়ক অরূপ রায় এবং পুরনিগমের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর শ্যামল মিত্র যুক্ত আছেন।" এই বিষয়ে থানায় ইতিমধ্যেই একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

    ঘটনার জল গড়িয়েছে পাশের বিধানসভা কেন্দ্র পর্যন্ত। বালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় কুমার সিং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, "শাসকদল সরকারি সম্পত্তিকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে। এর আগে বিভিন্ন দলীয় কার্যালয় থেকে সরকারি বালতি এবং সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধারের নজির রয়েছে। গত দেড় দশক ধরে হাওড়া পুরনিগমে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি চলেছে, এটি তারই অংশ।" বর্তমান জেলাশাসকের ওপর আস্থা রেখে তিনি জানান, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে মূল অপরাধীদের অবিলম্বে শ্রীঘরে পাঠানো উচিত।

    যদিও সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত বিধায়ক অরূপ রায়। তাঁর দাবি, "কোনও পাচারের উদ্দেশ্যে নয়, বরং গুদামে জমে থাকা উদ্বৃত্ত সরকারি ত্রাণ সামগ্রীগুলি নিয়মাফিক জেলাশাসকের দপ্তরে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। লরিতে যখন মাল তোলা হচ্ছিল, ঠিক তখনই রাজনৈতিক চক্রান্ত করে বিজেপির কর্মীরা এসে বাধা সৃষ্টি করে এবং অশান্তি ছড়ায়।" দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কোনও অসততার আশ্রয় নেননি বলে দাবি তাঁর। জানান, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই সাজানো নাটক তৈরি করা হয়েছে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লরি এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী ওই বেসরকারি গুদামে মজুত রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে শিবপুর থানার পুলিশ।
  • Link to this news (আজকাল)