মিল্টন সেন, হুগলি: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম নিয়ে অপপ্রচার চলছে। ফর্ম ফিলাপের ক্ষেত্রে কোনও জটিলতা নেই। সরকারের লক্ষ্য সঠিক মানুষকে সঠিক প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া। শনিবার পান্ডুয়া সরাই তিন্না গ্রাম পঞ্চায়েতে বিলি হল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম। ফর্ম বিলি অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন পাণ্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদার।
এদিন সরাই তিন্না গ্রাম পঞ্চায়েত ভবনের মিটিং হলে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত এলাকার মহিলাদের মধ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি করেন বিধায়ক নিজেই। উপস্থিত ছিলেন ব্লকের যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক। ফর্ম বিতরণের পাশাপাশি উপস্থিত সকল মহিলাদের এই প্রকল্প সম্বন্ধে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলেন তুষার।
আয়োজিত শিবিরের মধ্য দিয়ে এই ফর্ম ফিলাপের বিষয়ে সকলকে সচেতনও করেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সমস্ত মহিলাদের অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার জনমুখী প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে মহিলারা প্রাতি মাসে সরকারের তরফে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। চলতি মাসে বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে এরাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। শুরু হয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ফর্ম ফিলাপের প্রক্রিয়া।
ইতিমধ্যে বারো পাতার ফর্ম ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। এদিন সরাই তিন্না গ্রাম পঞ্চায়েতে এবং তিন্না মোড়ে দু'জায়গায় এলাকার মহিলাদের মধ্যে এই ফর্ম বিলি করলেন তুষার। বিগত সরকারকে কটাক্ষ করে বিধায়ক বলেন, "তৃণমূল সরকার পুরুষদের নামে লক্ষ্মী ভাণ্ডার দিয়েছে। সর্বত্রই চুরি আর দুর্নীতি। রাজ্যের এমন অবস্থা হয়েছে রাজ্যবাসী অথৈ জলে পড়েছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সঠিক মানুষের সঠিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে গেলে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস মানুষকে দিতে হবে। আমাদের সরকার বারবার মানুষকে লাইনে দাঁড় করাতে চায় না। তাই প্রয়োজনীয় সকল নথি সরকারের কাছে থাকলে পরবর্তীতে অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ অনায়াসেই সেই সুবিধা পাবেন। এই ফর্মের মধ্যে কোনও জটিলতা নেই। বিরোধীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে।"
বিধায়কের আরও বক্তব্য, "যেমন সরকারি চাকরি করতে গেলে সরকারকে ব্যক্তির নির্দিষ্ট সংশয়পত্র সহ অন্যান্য নথি দিতে হয়, ঠিক তেমনই সরকারি কোনও প্রকল্পের আওতায় আসতে গেলে, সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে সরকারকে প্রয়োজনীয় নথি তো দিতেই হবে। আশা করি তাতে কোনও সমস্যা হবে না মানুষের।"
এ দিন ফর্ম হাতে নিয়ে ইতি সমাদ্দার নামে স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, সরকারকে তাঁর নথিপত্র দিতে কোনও আপত্তি নেই। সবই তো জেরক্স দেওয়া হবে। তিনি আশাবাদী, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে আর্থিক সহায়তা তিনি পাবেন। তাঁর দাবি, সমস্ত নথি একেবারে দিয়ে দিলে আগামী দিনে অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধে হবে না।