• সিআইডি-র তলব পেয়েই কী হুঙ্কার অভিষেকের?
    আজকাল | ৩০ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেষমেষ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে আগামী সোমবার (১লা জুন, ২০২৬) ভবানী ভবনে তলব করল সিআইডি। সেই নোটিশ শনিবার দুপুরে সিআইডি আধিকারিকদের হাত থেকে নিজেই সই করে নিয়েছেন অভিষেক ব্যানার্জি। পরে জানা যায়, নোটিশ দিয়ে তাঁকে তলব করা হয়েছে।

    এদিন সিআইডি-র বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল বিধায়ক। রীতিমত হুঙ্কার ছাড়েন অভিষেক। বলেন, "আমি নোটিশটা পড়িনি এখনও। আমি খালি রিসিভ করেছি, সেটা আপনারা দেখলেন। আমি রিসিভ করেই আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি।"

    বিচার ব্যবস্থার দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়ে দেন তৃণমূলের 'সেকেন্ড-ইন-কমান্ড'। তিনি বলেন, "নিশ্চিতভাবে আমার আইন সহায়তা নেওয়ার অধিকার আছে, এবং আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। তাঁরা যে পরামর্শ দেবেন, সেই ভাবে চলব। আমার তো লুকানোর কিছু নেই। আমি বিগত দিনেও যখন আমাকে ইডি, সিবিআই এমনকি দিল্লিতেও ডেকেছে আমি সবসময় তদন্তে সহযোগিতা করেছি। এখানেও আমাকে যখন ডেকেছে নবজোয়ারের সময় আমার পদযাত্রা আটকে, কর্মসূচি আটকে একবার সিবিআই ডেকে পাঠিয়েছে। আমি গিয়েছি। এবার ইডি ডেকে পাঠিয়েছে।"

    এরপরই চড়া সুরে অভিষেক ব্যানার্জির চ্যালেঞ্জ, "কিছু না হলেও আমি প্রায় ১০ থেকে ১২বার দিল্লি, কলকাতা মিলিয়ে এদের কাছে অ্যাপিয়ার করেছি। আমি তো কোথাও পালিয়ে যাইনি। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে, সে কারণে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যদি এগুলিকে কেউ কাজে লাগায় তাহলে তারা ক্ষমতায় বেশি দিন টেকে না।"

    পুর দপ্তরের নোটিশ প্রসঙ্গেও এদিন অভিষেক মুখ খুলেছেন। বলেন, "কেএমসি আমাকে নোটিশ দিয়েছে। কেএমসি যে নোটিশ দিয়েছে তার রিপ্লাই আমি ইতিমধ্যেই দিয়েছি এবং গতকাল আমরা হাইকোর্টেও মুভ করেছি। কোর্টে কেসও ফাইল করা হয়েছে। যদি কেউ ভাবে যে, ডেকে ভয় দেখিয়ে জোর করে জবরদস্তি ফেক কেসে ইমপ্লিকেট করে জেলে ঢুকিয়ে আমাদের সম্মান নষ্ট করবে, আমরা ঐ ধাতুতে তৈরি নই। পারলে আমাকে গ্রেপ্তার করুক। তবুও আমি মাথা নত করব না।"

    অভিষেকের দাবি, "সবাই অমিত শাহর পদলেহন করে বিজেপিতে যোগদান করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিজেপিতে যায় না। যাঁদের মাথার উপর দু'টো তিনটে চারটে করে সিবিআই, ইডি কেস ঝুলছে তাঁরা আজকে নিজেদের বাঁচাতে বিজেপিতে আশ্রয় নিয়েছেন।" নাম উচ্চারণ না করলেও মনে করা হচ্ছে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের তির শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই।

    বাংলার মানুষের উপর বিচারের ভার তুলে দিতে চান অভিষেক। বলেছেন, "যারা তৃণমূলকে চোর বলে, বাংলায় স্বাধীনতার পর প্রফুল্ল সেন, প্রফুল্ল ঘোষ, অজয় মুখার্জি, সিদ্ধার্থ শংকর রায়, পরবর্তীকালে সিপিএম জমানায় জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্জ পরিবর্তনের পালাবদলের পর মমতা ব্যানার্জি-সহ কোন মুখ্যমন্ত্রীকে দু'কান কাটার মত টিভির ক্যামেরার সামনে হাত বার করে টাকা নিতে দেখা যায়নি। এখন বাংলার যিনি মুখ্যমন্ত্রী, তাঁকে টিভির পর্দায় নির্লজ্জের মত দু'কান কাটার মত হাত বাড়িয়ে টাকা নিতে ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছে। এরা আমাদের চোর বলে। মানুষ বোকা নয়, যারা লুটপাট করে ক্ষমতায় এসেছে, যেভাবে রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় এসেছে, এর বিচার মানুষ আগামী দিন করবে, এই বিশ্বাস আমার জনগণের উপর এবং গণতন্ত্রের উপর আছে।"

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন অভিশষেক ব্যানার্জি। বলেছেন, "দিল্লির কাছে মাথা নত করার আগে আমাদের মৃত্যু ভাল। আমার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে কেন? আমি অমিত শার বিরুদ্ধে কথা বলেছি বলে? আর যখন বিজেপির বিধায়করা বলে চামড়া গুটিয়ে দেব, অমুক করে দেব। তখন কোনও ব্যবস্থা হয় না। আপনি থানায় যান, এফআইআর নেবে না।"

    তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের হুঙ্কার নিয়ে বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র দেবজিৎ মজুমদার বলেছেন, "প্রশাসন তাদের কাজ করছে। এ নিয়ে বিজেপির কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। তবে দোষ বা অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না।"


  • Link to this news (আজকাল)