কপ্টার ছাড়াই পাখির চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ, দার্জিলিঙের এই অফবিটের খোঁজ অনেকেই জানে না
আজ তক | ৩০ মে ২০২৬
Darjeeling Skywalk Glass Bridge: পাহাড়ের রানী তিনি। ডাক পাঠালেই বাঙালি ব্যাগ গুছিয়ে হাজির। কুয়াশা মাখা ম্যাল, ধোঁয়া ওঠা মোমো আর কাঞ্চনজঙ্ঘার চেনা রসায়নে দার্জিলিং আমাদের চিরকালের ভালোবাসা। কিন্তু চেনা ছকের বাইরেও যে পাহাড়ি রূপসী তাঁর আঁচলে লুকিয়ে রেখেছেন এক অদ্ভুত মায়া, তার খোঁজ রাখেন ক’জন? এবার বর্ষায় ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যদি একান্তে পাহাড়কে ছুঁতে চান, তবে আপনার গন্তব্য হতে পারে উত্তরবঙ্গের এক্কেবারে নতুন এক ‘অফবিট’ রত্ন, বালওয়াবাস (Balwabas)।
দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে, সবুজে মোড়া এক নির্জন কোণে অপেক্ষা করছে এক দুর্দান্ত অ্যাডভেঞ্চার। ছোটো রঙ্গিত নদীর ঠিক ওপরেই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে দার্জিলিংয়ের প্রথম ‘স্কাইওয়াক’। কাঁচ আর কাঠের মেলবন্ধনে তৈরি এই ঝুলন্ত সেতুটি পর্যটকদের কাছে এখনও এক গুপ্তধন। প্রচারের আলো থেকে কিছুটা দূরে থাকায় চেনা পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মতো এখানে মানুষের চিলচিৎকার নেই, আছে শুধু প্রকৃতির নিজস্ব স্পন্দন।
ব্রিটিশ আমলের স্মৃতি ও আজকের রোমাঞ্চ
ইতিহাস বলছে, এই সেতুর বয়স নেহাত কম নয়। একসময় ব্রিটিশ আমল থেকে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের লাইফলাইন ছিল এই সেতু। ঘোড়ার খুরের আওয়াজে কেঁপে উঠত এই পথ। বিজনবাড়ির পুলাবাজারের সঙ্গে দার্জিলিংয়ের সিংথামকে জুড়তে এই সেতুর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক, দুই প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হতো এটি। সেই প্রাচীন সেতুকেই এখন পর্যটকদের জন্য নতুন রূপে, কাঁচের পাটাতন বসিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
নদী থেকে প্রায় ২০০ মিটার উঁচুতে ঝুলছে ১৬০ মিটারের এই স্কাইওয়াক। বর্ষার মরশুমে এর ওপর দাঁড়ালে রোমাঞ্চে গায়ে কাঁটা দেবেই! পায়ের নিচে কাঁচের স্বচ্ছ চাদর, আর তার ঠিক নিচ দিয়েই তখন ফুঁসতে ফুঁসতে ছুটে চলেছে ছটফটে ছোটো রঙ্গিত নদী। চারিদিকে মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি। মাঝেমধ্যে হিমেল হাওয়ার দাপটে যখন সেতুটি সামান্য দুলে ওঠে, তখন বুক দুরুদুরু অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ ষোলোআনা উশুল হয়ে যায়।
নিয়মকানুন ও পৌঁছনোর উপায়
যত্রতত্র ভিড় করে এই সেতুর ক্ষতি যাতে না হয়, তার জন্য কড়া নজরদারি রয়েছে। দেখভালের জন্য দায়িত্বে আছেন নির্দিষ্ট কর্মী। তাঁর নির্দেশ মেনেই জুতো খুলে পা রাখতে হয় কাঁচের ওপর। সুরক্ষার খাতিরে একসঙ্গে ১০ জনের বেশি মানুষকে সেতুতে উঠতে দেওয়া হয় না।
কীভাবে যাবেন?
শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) পৌঁছে যান। সেখান থেকে একটি প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে সোজা রওনা দিন বালোয়াবাসের উদ্দেশ্যে। বিজনবাড়ির চোখ জুড়ানো সবুজ উপত্যকা আর পাহাড়ের বাঁক পেরিয়ে কখন যে পৌঁছে যাবেন, টেরই পাবেন না।