• ইন্দ্রনীলের কত কীর্তি? 'স্বজনপোষণ', 'কাটমানি', 'মঞ্চ বিক্রি', মুখ খুলছেন একের পর এক শিল্পী
    আজ তক | ৩০ মে ২০২৬
  • তৃণমূল সরকারের পতনের পরেই দলের অন্দরে ক্রমশ ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রকাশ্যে আসছিল। এবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, তথা তৃণমূল নেতা-গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে রাশি রাশি অভিযোগ তুলছেন শিল্পীরা। গায়ক থেকে শুরু করে ইভেন্ট ম্যানেজাররাও রয়েছেন সেই তালিকায়।

    বিস্ফোরক ঋদ্ধি বন্দ্য়োপাধ্যায়

    সংগীত শিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্য়োপাধ্যায় সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। গায়িকার দাবি, কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে রীতিমতো 'কাটমানি' নিতেন ইন্দ্রনীল। তাঁর বক্তব্য কোনও অনুষ্ঠানে ৭ হাজার টাকা পাওয়া গেলে, ২ হাজার টাকা কাটমানি দিতে হত প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

    একই সঙ্গে বিস্ফোরক ভাবে ঋদ্ধি বন্দ্য়োপাধ্যায়ের অভিযোগ,  ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে এই কাজে জড়িত ব্যক্তিরা  সরকারি চাকরি পেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তৃষা-পারুই-গার্গী ঘোষ, প্রবীর মল্লিকের মতো লোকেদের নামও উল্লেখ করেছেন গায়িকা।

    স্বজনপোষণের অভিযোগে সরব চিকিৎসক-গায়কও

    ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগে সরব হয়েছেন চিকিৎসক-গায়ক উৎসব দাস। রবীন্দ্র সদনে রবীন্দ্র সংগীতে A গ্রেড পাওয়া গায়ক bangla.aajtak.in -কে জানান, "আমি একজন A গ্রেড পাওয়া গায়ক। কিন্তু আমাকে অনুষ্ঠানে ডাকা হত না। নির্দিষ্ট কিছু ১০-১২ জন ঘনিষ্ঠ  গায়ককেই যাবতীয় সরকারি অনুষ্ঠান, মেলার উৎসব অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার সুযোগ দেওয়া হত।" এমনকি কোনও কোনও অনুষ্ঠানে, বছরে এক আধবার মাত্র একটি গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি বিশিষ্ট গায়ক হিসেবে অত্যন্ত অপমানজনক বলেও উল্লেখ করেন রাজ্য সংগীত অ্যাকাডেমি-র দু'বার সেরা হওয়া এই গায়ক-চিকিৎসক।

    এই সংগীত শিল্পী বলেন, "নতুন সরকারের কাছে আমার আবেদন, বিষয়টির একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। শোনা যাচ্ছে, এই ১০-১২ জন শিল্পীর মধ্যে কেউ কেউ চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের বাড়ির লোক চাকরি পেয়েছেন। কাটমানি দেওয়া হয়েছে। এদের ব্যাঙ্ক লেনদেন খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হোক।" 

    বিস্ফোরক তোচন ঘোষ

    ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন সঙ্গীত আয়োজক সংস্থার মালিক তোচন ঘোষও।  এই অর্গানাইজার একটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, তিনি বারবার আবেদন করলেও রবীন্দ্র সদন ভাড়া নিতে গিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের কাছে বাধা পেয়েছেন। এমনকি মিউজিক কোম্পানির লেটারহেড নিয়ে গিয়েও ভাড়া পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, "একসময় শিবাজী চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল সেন, অরুন্ধন্তী, সৈকত মিত্র, পরিমল ভট্টাচার্য, নুপুরছন্দা ঘোষ, গার্গী ঘোষ, তথাগত সেনগুপ্ত ছাড়া আর কেউ রবীন্দ্র সদনে গাইতে পারত না। বাকি সবাইকে  বাইরের মাঠে গাইতে দিত৷"

    অভিযোগ করছেন দোলা বন্দ্য়োপাধ্যায়ও

    বঞ্চনার অভিযোগে সরব হয়েছেন সংগীত শিল্পী দোলা বন্দ্য়োপাধ্যায়ও। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি স্বাক্ষাৎকারে গায়িকার অভিযোগ, "আমরা যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ চাইতে গিয়েছিলাম কিন্তু কাজ পাইনি। চাকরি বিক্রির মতো মঞ্চ বিক্রি হয়েছে।"

    তাঁর দাবি, "চাকরি বিক্রির মতো মঞ্চ বিক্রির কথা বলছি কারণ মঞ্চের সামনের দিকে তৎক্ষনাৎ হাতে হাতে টাকা তোলা হত, এটা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি৷" দোলা বন্দ্য়োপাধ্যায় জানান, "২০১৫ এর পর ইন্দ্রনীল সেন দায়িত্বে আসার পর থেকেই শিল্পীদের সুযোগ দেওয়ার জন্য কাটমানি নেওয়া শুরু হল৷ জেলাভিত্তিক ছড়িয়ে পড়েছিল। আমাকেও টাকার কথা বলা হয়েছিল৷ কিন্তু আমি কখনও কোথাও টাকা দিয়ে গান গাইনি৷ আমি প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলাম, অনেকেই যাঁরা প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।" 

     
  • Link to this news (আজ তক)