ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আগুনে রুদ্ধ পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। এর জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু অশান্তির মধ্যেও হরমুজে অবাধে যাতায়াত করছে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ। কিন্তু কীভাবে? সেই গোপন কূটনীতির কথা ‘ফাঁস’ করল নরেন্দ্র মোদি সরকার।
শুক্রবার জাহাজ ও বন্দর মন্ত্রকের অন্তর্গত নৌপরিবহণ বিষয়ক পরিচালক ওপেশকুমার শর্মা একটি আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্তারা। ওপেশকুমারের বক্তব্য, হরমুজতে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে ভারত সমন্বয় করে চলছে। কিন্তু কীভাবে গোটা বিষয়টি পরিচালিত হচ্ছে, কীভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। শুধু এইটুকু বলতে চাই, আমাদের কাজ বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করা। এখানেই আমরা সীমাবদ্ধ।” ওপেশকুমারের দাবি, বর্তমানে হরমুজের কাছে প্রায় ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, পাঁচটি অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কার, একটি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার, তিনটি কন্টেনার জাহাজ, দু’টি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং একটি ড্রেজার। বিপদ সত্ত্বেও ভারত এই পথ দিয়ে নৌচলাচল অব্যাহত রেখেছে।
ইরান-আমেরিকার শান্তিচুক্তির এখনও কোনও অগ্রগতি হয়নি। পরিস্থিতি যে কোনওদিন পরিবর্তন হতে পারে। তবে বিদেশমন্ত্রকের একটি সূত্র স্পষ্ট করেছে, যুদ্ধের অভিমুখ যেদিকেই যাক না কেন হরমুজে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলে কোনও সমস্যা হবে না। দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে অশান্তির মধ্যেও একের পর এক তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ ভারতমুখী হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে দিনে আসে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল। শুধু তা-ই নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশও এই পথে আমদানি করা হয়। ফলে হরমুজ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বলে পরিচিত।