ছেলে দীপুর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আক্ষেপ সুমিত্রা রায়ের আজও কাটেনি। পাকা কথার পর ছেলের বাড়িঘর দেখতে এসেই বিয়ে ভেঙে দেয় পাত্রীর (জলপাইগুড়ি) পরিবার। তাদের সাফ কথা, আর যাই হোক, ওই বাড়িতে মেয়ের বিয়ে নয়। কারণ দোরগোড়ায় ‘উদলা’ (পড়ুন উদোম) সীমান্ত! হাত বাড়ালেই বাংলাদেশ! কখন কী অঘটন ঘটে যায়, নিশ্চয়তা কোথায়! বেরুবাড়িরই নলজোয়াপাড়ার মীনা রায়ের মেয়ের বিয়েও ভেঙে গিয়েছিল। উদোম সীমান্তের ত্রাসে এ তল্লাটে বিয়ের ফুল ফুটেও ফোটেনি আরও অনেক পরিবারেই। রাজ্যে সরকার বদলের পর সেই সীমান্তেই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হওয়ায় পরম স্বস্তিতে নলজোয়া আর ভুজারিপাড়ার মানুষ। বেড়ার জন্য জমি দানে এ তল্লাটের গ্রামের মানুষ রীতিমতো অকৃপণ। জমির দানপত্রে ৬৫ পরিবারের স্বাক্ষর ইতিমধ্যেই সারা।
জলপাইগুড়ি শহর থেকে প্রায় পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরে মানিকগঞ্জ ফাঁড়ির অন্তর্গত দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম। গা ঘেঁষে বাংলাদেশ। গ্রামের প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত। বিএসএফ, পুলিশের নজরদারি থাকলেও সীমান্তে বেড়া না থাকায় দুশ্চিন্তায় বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নলজোয়া ও ভুজারিপাড়ার আমজনতার। ফাঁড়ি থেকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার ভিতরে গ্রাম। অন্ধকার হলে তো এপার-ওপার একাকার!
রাজ্যের নতুন সরকার দেশ ও নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিএসএফকে জমি দিতে সম্মতি দেওয়ায় এবার আশার আলো দেখছেন সীমান্তপাড়ের এই দুই গ্রামের বাসিন্দারাই। বেরুবাড়ি প্রতিরক্ষা কমিটির সদস্য তথা নলজোয়া পাড়ার বাসিন্দা সারদা প্রসাদ দাসও নিজের জমি বিএসএফকে দিতে সম্মতি দিয়েছেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই এই দুই গ্রামের জমি জরিপ হয়ে গিয়েছে। ৮ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বিঘা মূল্যে জমির দামে সন্তুষ্ট জমিদাতারা। বেড়া বসলে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত তো হবেই। ছেলেমেয়েদের বিয়ের বাধাও কাটবে বলে আশায় দিন গুনছেন বেরুবাড়ির বাসিন্দারা।