• বঙ্গে বাধ্যতামূলক জন্মনিয়ন্ত্রণ! বানতলা ধর্ষণ প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন শমীকের
    প্রতিদিন | ৩০ মে ২০২৬
  • বিজেপি সরকারের আমলে বাংলায় এবার জন্ম নিয়ন্ত্রণ হতে পারে। তেমনই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার বিধাননগরে সারভাইক্যাল ক্যানসারের টিকাকরণের সূচনা অনুষ্ঠান থেকে অনিতা দেওয়ানের খুনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “একটা সময় ছিল যখন পোলিও প্রতিষেধক দিতে গেলে মানুষ বাধা পেতেন। ধর্মান্ধ প্রচারের কারণে সমস্ত রোগকে আমরা নির্মুল করে ফেলতে পারিনি। সরকার সবে হয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যেই শপথ নেবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই আবহে আমি আশাবাদী, যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই কয়েকদিনের মধ্যেই মানুষের আবেগ ছুঁতে পেরেছেন, একের পর এক দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি এরাজ্যের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেরও চেষ্টা করবেন।”

    ৩৪ বছর আগে বানতলায় টিকাকরণ অনুষ্ঠানে গিয়ে অনিতা দেওয়ানের গণধর্ষণের প্রসঙ্গ টেনে এদিন শমীক দাবি করেন,, “সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজে পরিবার পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনে ফ্ল্যাগশিপ প্রোজেক্ট তৈরি করে সরকারি প্রচারের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে উদ্যোগ নিতে হবে। জমির উপর মানুষের চাপ কমাতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা করে মহিলাদের বিকাশ ঘটাতে এবং শিক্ষা-আর্থসামাজিক বিকাশের দিকটিও মাথায় রাখতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে আবেদন করেন। তাঁর দাবি, এই মুহূর্তে এরাজ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের যথেষ্ট প্রয়োজন।

    এদিন শমীক ভট্টাচার্যের জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গে যে অনিতা দেওয়ানের প্রসঙ্গ উঠে এল। তাঁকে নিশ্চয়ই মনে আছে? ঘটনা ৩৪ বছর আগের হলেও, তার দগদগে স্মৃতি এখনও স্পষ্ট। ১৯৯০ সালের ৩০ মে গোসাবা থেকে কলকাতায় ফেরার পথে বানতলা এলাকায় অনিতা দেওয়ান সহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দুইজন নারী স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং ইউনিসেফের একজন নারী আধিকারিকের উপর নারকীয় অত্যাচার চলে। ড্রাইভার বাধা দিলে তাঁকেও খুন হতে হয়েছিল। তৎকালীন বাম জমানায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর আমলে এই নৃশংস গণধর্ষণের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশ তথা বিশ্বকে। এদিন সারভাইক্যাল টিকার মঞ্চে তাঁদের সেই ঘটনা স্মরণ করিয়ে শমীক বলেন, “এই সরকার কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য নয়৷ পশ্চিমবঙ্গের ১০ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য এই সরকার।” তিনি স্পষ্ট জানান, “সব চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা৷ এই সরকারকে কোনও দল নিয়ন্ত্রণ করবে না৷ কোন বিশেষ দলের কার্যালয় থেকে কোন চিকিৎসকের বদলির অর্ডার আসবে না সরকার সরকারের মতো চলবে৷” 

    বিধাননগর হাসপাতালে সার্ভাইকাল ক্যানসারের টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ বিশিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রের সহায়তায় আজ, শনিবার থেকেই গোটা রাজ্যে শুরু এই টিকাকরণ কর্মসূচি। রাজ্যের ১৪-১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হবে। সকল সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই এই পরিষেবা মিলবে বলে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৭ লক্ষের বেশি টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। বাংলার মোট ২৩৫ টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ওই টিকা দেওয়া হবে। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)