: সীমান্তে কাঁটাতারের জট কাটাতে মাঠে মন্ত্রী, গাবড়দা পরিদর্শনে অশোক কীর্তনীয়া। বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লকের কৈজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্তবর্তী গাবর্ডাহ্ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাঁটাতার নির্মাণ প্রকল্পের জট খুলতে উদ্যোগী হল রাজ্য প্রশাসন। সেই লক্ষ্যে এদিন এলাকায় পরিদর্শনে এলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখছেন সীমান্তবাসীরা।
জানা গিয়েছে, স্বরূপনগরের সীমান্তবর্তী বড়ুল গাবর্ডাহ্ এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজ বহুদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে ছিল। কোথাও বসতবাড়ির উপর দিয়ে, আবার কোথাও ব্যক্তিগত কৃষিজমির মধ্য দিয়ে সীমান্তরেখা চলে যাওয়ায় কাঁটাতার নির্মাণে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল প্রশাসন ও বিএসএফকে। ফলে সীমান্তের বেশ কিছু অংশ এখনও সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিন গাবর্ডাহ্ গ্রামে পৌঁছে প্রথমে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে সীমান্ত এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র তুলে ধরে আধিকারিকরা কাঁটাতার নির্মাণের সম্ভাব্য রূপরেখা, জমির অবস্থান, সীমান্ত নির্ধারণের বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। কোন অংশে কীভাবে কাঁটাতার বসানো হবে এবং জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী স্বরূপনগর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে যান। সেখানে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে কীভাবে দ্রুত কাঁটাতার নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সীমান্ত নির্ধারণের সমস্যার কারণে কাঁটাতার নির্মাণের কাজ থমকে ছিল। এতে নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগে এবার সেই জট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় খুশি এলাকার মানুষ।
সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি জমির মালিকদের স্বার্থ এবং স্থানীয় বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দিকেই এখন নজর প্রশাসনের। মন্ত্রীর এই পরিদর্শনের পর দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কাঁটাতার নির্মাণের কাজ নতুন গতি পাবে বলেই আশা সীমান্তবাসীদের।