ঘনঘন ওআরএস থেকে মাথার কাছে হাইস্পিড ফ্যান, গরমে এলাহি আয়োজন রমনাবাগানে
News18 বাংলা | ৩০ মে ২০২৬
দিনে তিনবার স্নান করানো থেকে ওআরএস, হাইস্পিড স্ট্যান্ড ফ্যান। তীব্র দাবদাহ ও হাঁসফাঁস করা গরম থেকে পশু-পাখিদের রেহাই দিতে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে বর্ধমানের জুওলজিক্যাল পার্ক কর্তৃপক্ষ। একইদিনে তিন থেকে চারবার বাঘেদের স্নান করানো হচ্ছে। পশুপাখিদের খাওয়ানো হচ্ছে ওআরএস। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ। পারদ চড়েছে ৪৪ ডিগ্রিতে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে তাপপ্রবাহজনিত অস্বস্তিকর আর্দ্রতা। অস্বস্তিকর গরম আর তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ৷ সকাল ১০ টার পর রাস্তাঘাট শুনশান। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাস্তাঘাটে লোকজন দেখা যাচ্ছে না।
অস্বস্তিকর গরমে সকলের নাজেহাল অবস্থার মধ্যেই হাঁসফাঁস করছে পশুপাখিরাও। ব্যতিক্রম নয় বর্ধমানের রমনাবাগানে জুওলজিক্যাল পার্কও। তীব্র তাপপ্রবাহ ও অস্বস্তিকর আবহাওয়াতে পশু পাখিদের তাপপ্রবাহের হাত থেকে রক্ষা করতে ও সুস্থ রাখতে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে বন দফতর। প্রতিদিনই নিয়ম করে তাদের খাওয়ান হচ্ছে ওআরএস, গ্লুকোজ। স্বস্তি দিতে চালান হচ্ছে হাইস্পিড ফ্যান, স্প্রিঙ্কলার মেশিনের সাহায্যে দেওয়া হচ্ছে জলের ছিটে। শরীর হালকা রাখতে খাবারের মেনুতেও বদল করেছে রমনাবাগান জুওলজিক্যাল কর্তৃপক্ষ। বছরের অন্যান্য সময়ের খাদ্য তালিকা থেকে এই সময় ফলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে প্রায় দ্বিগুন।
বর্তমানে বর্ধমান রমনাবাগানে পশুপাখিদের জন্য প্রতিদিন আসছে প্রায় ৫ কেজি করে আম, ২৫ থেকে ৩০ কেজি করে তরমুজ। পাশাপাশি ছোলা, বিভিন্ন ধরনের শাক ও ভাল্লুকের জন্য থাকছে আখ। এছাড়াও সমস্ত প্রাণীদের দেওয়া হচ্ছে তিনবার করে ওআরএস ও গ্লুকোজ। এনক্লোজারে করা হয়েছে খড়ের অস্থায়ী শেড, নাইট সেল্টারে লাগানো হয়েছে স্প্রিঙ্কলার মেশিন ও বাইরে লাগান হয়েছে হাইস্পীড ফ্যান। এছাড়াও প্রতিদিন তিনবার করে স্নান করানো হচ্ছে পশুপাখিদের। সব সময় ভর্তি রাখা হচ্ছে ওয়াটার বডি, যাতে প্রয়োজন মনে করলে নিজেরাই এসে গা ভিজিয়ে নিতে পারে পশু-পাখিরা। অন্যান্য সময় ভাল্লুককে ভাত, রুটি, মধু ও দুধ দেওয়া হলেও এই তীব্র গরম চিকিৎসকদের পরামর্শে ভালুকের খাদ্যতালিকাতেও এসেছে বদল।
এই সময় বেশি করে দেওয়া হচ্ছে মিষ্টি আম, তরমুজ ও মাঝেমধ্যে ছোট ছোট আখ। রমনাবাগান জুওলজিক্যাল পার্ক কিপার রবীন্দ্রনাথ পাল বলেন, প্রতিবছরই আমাদের একটি সিডিউল থাকে। তাই আমরা এই নির্দিষ্ট সময়ের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকি এবং পশু পাখিদের ওপর এই সময় বাড়তি নজর দেওয়া হয়। ওয়াটার বডিতে যাতে সব সময় পর্যাপ্ত জল থাকে, তা নজর রাখা হয় এবং নাইট শেল্টারের বাইরে লাগানো হয়েছে ফ্যান। প্রাণীরা নাইট শেল্টারের ভিতরে এলেই ফ্যান চালিয়ে দিচ্ছেন বনকর্মীরা। খাওয়া-দাওয়ার এই বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়ম করে পশুপাখিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন পশু চিকিৎসকরা। গরমে কোনও প্রাণীর শরীর যাতে ডিহাইড্রেটেড বা জলশূন্য না হয়ে পড়ে, তার জন্য ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।