দশমাস সবাই জানে তিনি ‘গর্ভবতী’! লেবাররুমে ঢুকতেই চাঞ্চল্য, গর্ভে কোনও সন্তান নেই? বিরল ঘটনা কাটোয়া হাসপাতালে
News18 বাংলা | ৩০ মে ২০২৬
দশ মাস ধরে সবাই জানতেন তিনি গর্ভবতী। তিনি নিজেও তাই জানতেন৷ নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ, ইনজেকশন সবই চলছিল। পরিবারের লোকজনও অপেক্ষায় ছিল নতুন অতিথির। কিন্তু প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে লেবাররুমে ঢোকার পরই সামনে এল অবিশ্বাস্য সত্য! চিকিৎসক জানিয়ে দিলেন ওই মহিলার গর্ভে কোনও সন্তানই নেই৷
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে। কেতুগ্রাম ১ ব্লকের হাটমুর গ্রামের বাসিন্দা ফুলবানু বিবিকে শুক্রবার সকালে সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করান হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। এমনকি মা ও শিশু সুরক্ষা কার্ডও ইস্যু করা হয়েছিল।
শুক্রবার অল্প তলপেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ফুলবানুকে লেবাররুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় পরীক্ষা করতেই চমকে ওঠেন। তিনি পরিবারকে জানান, ফুলবানু আদৌ গর্ভবতী নন। তাঁর পেটে কোনও সন্তান নেই।ঘটনায় বিভ্রান্তি কাটাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ফের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করায়। রিপোর্টে স্পষ্ট হয়ে যায়, ফুলবানু কখনও গর্ভধারণই করেননি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় ‘সিউডোসাইসিস’ বা ‘ফলস প্রেগন্যান্সি’।
এই অবস্থায় কোনও মহিলা গর্ভবতী না হয়েও শরীরে গর্ভধারণের একাধিক লক্ষণ অনুভব করেন। পেটের আকার বৃদ্ধি, বমি ভাব, ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া এমন নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মানসিক ও হরমোনজনিত কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। যদি ফুলবানু গর্ভবতীই না হন, তাহলে এতদিন ধরে কীভাবে তাঁর গর্ভাবস্থার চিকিৎসা চলল? কেন বিষয়টি ধরতে পারলেন না স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা চিকিৎসকরা?
ফুলবানুর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত ওষুধ তো দেওয়া হয়েছিলই, এমনকি ইঞ্জেকশনও দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাবা ফুলচাঁদ শেখের দাবি, চিকিৎসকেরা পর্যন্ত বলেছিলেন পেটের বাচ্চার জন্ডিস হয়েছে। যদিও যে চিকিৎসক গত কয়েকমাস ধরে ফুলবানুর চিকিৎসা করেছিলেন, সেই সোমনাথ মুখোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “আমি কখনও বলিনি উনি গর্ভবতী। আমি আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। যার সন্তানই নেই, তার আবার বাচ্চার জন্ডিস হবে কী করে?”
এদিকে দশ মাস ধরে নিজেকে গর্ভবতী বলে বিশ্বাস করা ফুলবানু সত্যিটা জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যরাও কার্যত হতবাক। ঘটনার পর কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল জানান, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এই বিভ্রান্তি তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
গর্ভকালীন দায়িত্বে থাকা ব্লক স্বাস্থ্যকর্মীকেও শোকজ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফুলবানুর বাবা ফুলচাঁদ সেখের দাবি, “আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে, আর কোনও মহিলার সঙ্গে যেন এমন না হয়।” স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে এক মহিলার দশ মাসের মাতৃত্বের স্বপ্ন মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা এখন কাটোয়া জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।