তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। গলায় তাঁর দরাজ জোর, তাই এলাকায় বেশ পরিচিতি রয়েছে বাচিক শিল্পী হিসেবেও। শুধু তাই নয়, দীর্ঘকাল ধরে তিনি সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর আরও একটি বড় এবং অনন্য পরিচয় হল, তিনি একজন নিবিড় পত্রলেখক। ছোটবেলা থেকেই রেডিও বা বেতারের প্রতি তাঁর অদ্ভুত এক টান ছিল। রেডিও শুধু শোনা নয়, রেডিও ভেঙে আবার তা নিজের হাতে তৈরি করার নেশায় ছোটবেলায় বহুবার গুরুজনদের কাছে বকাঝকাও খেয়েছেন।
সেই অখিলবন্ধু বাবু এবার তাঁর নিজের লেখা বেতারের চিঠিগুলি নিয়েই প্রকাশ করলেন আস্ত একটি বই। পেশাগত জীবনের প্রথম দিক থেকেই চিঠি লেখা অখিলবন্ধুর কাছে অন্তরের আত্মার মতো। দীর্ঘকাল ধরে তিনি পরিচিত মানুষদের বহু চিঠি লিখেছেন, তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যুত্তরও পেয়েছেন। কিন্তু এককালে সেই সমস্ত চিঠি যত্ন করে সংরক্ষণ করে রাখার কোনও সুযোগ তাঁর কাছে ছিল না। বিজ্ঞান বিভাগেও তিনি আগে চিঠি লিখতেন, তবে তারও কোনও রেকর্ড নেই। পরবর্তীতে তিনি নিয়মিত আকাশবাণীতে চিঠি লিখতে শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে তিনি আকাশবাণীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্নভাবে একের পর এক চিঠি লিখে গিয়েছেন।
আকাশবাণীর ‘প্রাত্যহিকী’, ‘ভোরাই’, ‘বুধ সকালে’, ‘অভিজ্ঞান’ এবং ‘প্রত্যুষা’-র মত জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলিতে তাঁর লেখা চিঠি নিয়মিত পৌঁছে গিয়েছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে চিঠি লেখার শিল্প আজ ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং আকাশবাণীকে ধন্যবাদ জানাতেই তিনি তাঁর লেখা চিঠিগুলি সংকলিত করার সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রচারিত হওয়া এবং না হওয়া, উভয় ধরনের চিঠি নিয়েই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম বই ‘ভালবাসার বেতার চিঠি’।
গল্প বা দীর্ঘ উপন্যাসের বদলে কেন চিঠির সংকলন প্রকাশ করলেন তিনি? এই প্রসঙ্গে অখিলবন্ধু বাবুর সুস্পষ্ট মত, বর্তমান সময়ে মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে, হাতে সময় বড় কম। কম সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং বার্তা সহজে পৌঁছে দেওয়ার জন্য চিঠির থেকে ভাল মাধ্যম আর কিছু হতে পারে না। তাঁর এই সংকলিত বইয়ের চিঠিগুলিতে মূলত প্রাধান্য পেয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, বিশেষত মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা কথা এবং বিভিন্ন মনীষীদের জীবন চর্চা। তাঁর এই অভিনব উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন চিঠি লেখার পুরনো ঐতিহ্য সংরক্ষিত হল, তেমনই পাঠকরাও সমৃদ্ধ হচ্ছেন মেদিনীপুরের অজানা ইতিহাসে।