পিছিয়ে পড়াদের দুয়ারে প্রশাসন! নদিয়ায় শুরু কেন্দ্রের বিশেষ প্রকল্প 'জন ভাগিদারি'
News18 বাংলা | ৩০ মে ২০২৬
: আদিবাসীদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ ‘জন ভাগিদারি সবসে দূর, সবসে পেহলে’ প্রকল্প চালু হল নদিয়ার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কুলো চাঁদপুর জুনিয়র হাই স্কুলে। নদিয়া জেলার পাঁচটি ব্লকে এই প্রকল্প চালু করা হল বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এর সঙ্গে কেন্দ্রের আদিবাসী কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি যুক্ত বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ও দুর্গম যে আদিবাসী গ্রামগুলিতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কম পৌঁছেছে, সেখানে সরাসরি প্রশাসনকে পৌঁছে দিতেই এই প্রকল্প বলে জেলা কর্তাদের দাবি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানীয় জল ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য বলে নদিয়া জেলার বিজেপির সাংগঠনিক মুখপাত্র ও কোঅর্ডিনেটর অমিত প্রামাণিক জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ায় নাকাশিপাড়া ব্লকের মিরাইপুর আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণনগর ২ ব্লকের দলিমৌলা-ঝিটকিপোতা আদিবাসী প্রাথমিক স্কুল, কৃষ্ণনগর ১ ব্লকের বাগাডাঙা-কাপাসডাঙা প্রাথমিক স্কুল ও কুশি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের কুলে চাঁদপুর জুনিয়র হাই স্কুলে,চাকদহে মহানালা আদিবাসী বিদ্যালয়ে বিশেষ শিবির করা হয়েছে। এই সমস্ত শিবিরে বিভিন্ন সরকারি সামাজিক সুরক্ষামূলক পরিষেবা সরাসরি আদিবাসীদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বৃক্ষরোপণও করা হবে।
কোনও ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় যে কারও ক্ষেত্রে কোনও পরিষেবা ওই শিবির থেকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তা ব্লক, মহকুমা বা জেলা থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এই পাঁচটি ব্লকে নিয়মিত এই শিবিরের আয়োজন করা হবে। যাঁরা সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া তাঁদের সবার আগে পরিষেবা দেওয়ার জন্যই এই প্রকল্পের আয়োজন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর । প্রতিদিনই স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হবে।
এর পাশাপাশি শিবিরের মাধ্যমে স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দাদের জন্য আলাদা করে জন শুনানির আয়োজন করা হবে। তার মাধ্যমে তাদের থেকে এলাকায় কী কী সমস্যা আছে সেটা শনাক্ত করা হবে। সেটা কোনও পরিষেবা হতে পারে বা কোনও পরিকাঠামো হতে পারে। সেই সমস্ত সমস্যার তালিকা তৈরি করে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লক বা জেলা স্তরে সমাধানের জন্য পদক্ষেপ করা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে এই প্রকল্প সফল করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পাঁচ দিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্প রাজ্যের পাশাপাশি জেলায় প্রথম বাস্তবায়িত হচ্ছে।