সার্ভাইক্যাল ক্যানসার দূরীকরণে সরকারের বড় উদ্যোগ! টিকাকরণ শুরু করেই শেষ নয়, চলবে এই কাজও
News18 বাংলা | ৩০ মে ২০২৬
: মহিলাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জরায়ুমুখের ক্যানসার। এর প্রতিরোধে রাজ্যজুড়ে শুরু হল বিনামূল্যে ‘হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস’ (এইচপিভি) টিকাকরণ কর্মসূচি। কেন্দ্র সরকারের সহযোগিতায় চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় সমগ্র দেশের প্রায় ১.১৫ কোটি মেয়েদের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মোট ২৩৫ টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একযোগে এই কর্মসূচির শুরু হয়। গোটা রাজ্যে এই টিকাকরণ যজ্ঞ চালাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ইতিমধ্যেই ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ প্রতিষেধক পাঠিয়েছেন। ধাপে ধাপে মোট ৮৮০টি কেন্দ্রে এই কর্মসূচি চালানো হবে। শনিবার কলকাতার বিধান নগর হাসপাতাল থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরই অংশ হিসেবে পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে ডা. অশোক বিশ্বাস নিজ হাতে এক উপভোক্তাকে এইচপিভি টিকা প্রদান করে এই টিকাকরণ কর্মসূচি সূচনা করেন।
এ বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারীক ড. অশোক বিশ্বাস বলেন, সার্ভাইক্যাল ক্যানসার সম্পর্কে মানুষ সচেতন নয়। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রাইমারি স্কুলে প্রচার করা হবে। যে সমস্ত আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রয়েছেন তারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রচার করবেন। বর্তমানে এই জেলার যে সমস্ত হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার ও নার্স থাকেন, সেই সমস্ত হাসপাতালে এই টিকাকরণ চলবে।
এ বিষয়ে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, দেরিতে হলেও যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা খুবই ভাল উদ্যোগ। এর মধ্যে দিয়ে সার্ভাইকাল ক্যানসার প্রতিরোধ করা যাবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসার সৃষ্টি হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যাপক টিকাকরণের মাধ্যমে আগামী দিনে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার মহিলাদের মধ্যে এই টিকা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচিকে নারীস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।